স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান

বঙ্গবন্ধুকে বন্দী করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার পর বিশ্ব বিবেক এর। বিরুদ্ধে সােচ্চার হয়ে উঠে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতৃবৃন্দ এর বিপক্ষে পাকিস্তানকে চাপ দেয়। বঙ্গবন্ধুর বিচারে বিভিন্ন দেশের ও জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া ছিল নিম্নরূপ : ১. ভারতের প্রতিক্রিয়া : ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। তিনি সর্বদা বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব দরবারের সামনে দাড়ান এবং অন্যায়ভাবে বঙ্গবন্ধুকে আটকে রাখার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি জাতিসংঘ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে চিঠি লিখে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য। আবেদন জানান। ২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল পাকিস্তানের সমর্থক। মার্কিন নেতৃবৃন্দ তৎকালীন পাকিস্তানের বিভাজন ও বাংলাদেশের উদ্ভব হােক সেটা চাইতেন না। ১৯৭১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর বিচারের নামে বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রহসন করা হয় এবং তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি

এমতাবস্থায় আমেরিকা এই বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে ইয়াহিয়াকে কড়া ভাষায় নিষেধ করে।। ৩. জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার সম্পর্কে ইয়াহিয়া খান যে বক্তব্য প্রদান করেন, সে বক্তব্যের কড়া সমালােচনা করে এই সাজানাে বিচার বন্ধের দাবি জানান জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব। তিনি বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্যে যা ঘটবে তা অবধারিতভাবে পাকিস্তানের বাইরেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।” উপসংহার : উপযুক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে একথা বলা যায় যে, বিশ্বের কোনাে দেশের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর ষড়যন্ত্রমূলক বিচার মেনে নিতে পারেন নি। সকলেই এই অন্যায় বিচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা উল্লেখ কর। অথবা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা সংক্ষেপে লিখ। উত্তর : ভূমিকা : ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথে এদেশের সকল শ্রেণীর মানুষ যেমন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে তেমনি প্রবাসীরাও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করতে থাকে। প্রবাসীরা কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করতে থাকে এবং স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান করতে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশের নেতৃবৃন্দের। কাছে ধরনা দিতে থাকে। মূলত এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রবাসী বাঙালি নাগরিক সমাজের অসামান্য অবদান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা : প্রবাসী বাঙালিরা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও এদেশের স্বাধীনতায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। স্বাধীনতার জন্য তারা যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তার কিছু বিবরণ নিম্নে।

উল্লেখ করা হলাে : ১. প্রতিবাদ সভা ও অনশনে অংশগ্রহণ : বাংলাদেশের তৎকালীন সংগ্রামী নেত্রী আশালতা সেন সেই। সময়ে নিউইয়র্কে বাস করতেন। তিনি নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রবাসীদের সংগঠিত করেন। বয়সের। ভারকে অগ্রাহ্য করে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে ভাষণ দেন এবং অনশনকারীদের সঙ্গে নিজেও অনশন করেন।। ২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হত্যাকাণ্ড বিশ্বব্যাপী প্রচার : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কাল রাতে পাকসেনাদের দ্বারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ও শিক্ষক কোয়াটারে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানাে হয়েছিল তা বিশ্বব্যাপী প্রচার। করার সিদ্ধান্ত নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। তিনি ১০ এপ্রিল বিবিসির এক। সাক্ষাৎকারে ২৫ মার্চ রাতের ভয়াবহতা সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রচারপত্র বিলি

হাইবারি হিল-এ অবস্থিত পূর্ব পাকিস্তান ভবনে এক সমাবেশ পূর্ববাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের বিষয়ে আলাপকালে পূর্ববঙ্গের স্বাধীনতা ঘােষণার প্রস্তাব গৃহীত হয়। ঐদিন সন্ধ্যায় পাকিস্তান হাই কমিশনের সামনে ছাত্র ও যুবকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে ঘােষণাটি বাংলা ও ইংরেজিতে ছাপিয়ে সর্বসাধারণের মাঝে বিতরণ করা হয়। ৪. গণসমাবেশের আয়ােজন : যুক্তরাজ্যের তকালীন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৪ মার্চ ১৯৭১ লন্ডনে একটি গণসমাবেশের আয়ােজন করা হয়। যুক্তরাজ্যের অনেক শহর থেকে প্রায় দশ হাজারের বেশি বাঙালি হাইড পার্কে অনুষ্ঠিত সেই সমাবেশে যোেগদান করেন। সমাবেশস্থল থেকে বিক্ষোভকারীরা তঙ্কালীন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি গাউস খানের নেতৃত্বে লাউন্ডস স্কোয়ারে অবস্থিত পাকিস্তান হাই কমিশনে উপস্থিত হয়ে পূর্ববাংলার স্বাধীনতার দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

আরো পড়ুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *