স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা অপরিসীম

যৌথ বাহিনী : বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ। কমান্ড’ই যৌথ বাহিনী নামে পরিচিত। ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ড গঠনের প্রস্তুতি চলে যা কার্যকর হয় ৩ ডিসেম্বর সেনাপতি মানেক শ’ ছিলেন এর প্রধান। তবে যৌথ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন। ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় সেনাধ্যক্ষ লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরােরা। চিপ অব স্টাফ ছিলেন মেজর জেনারেল জে. এফ।

আর জ্যাকব। যৌথ বাহিনী বাংলাদেশের গােটা রণাঙ্গনকে ৪টি ভাগে ভাগ করে। যথা ১. উত্তর-পশ্চিম সেক্টর : রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও রাজশাহী এর অন্তর্গত। অধিনায়ক : লে. জে, এম এল জাপান।। ২. পশ্চিম সেক্টর : যশাের, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, খুলনা এর অন্তর্গত। অধিনায়ক : লে. জে. টি । এল রাইনা।। ৩. দক্ষিণ-পূর্ব সেক্টর : মৌলভীবাজার, সিলেট, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ভৈরববাজার, দাউদকান্দি, নােয়াখালী, চট্টগ্রাম ছিল এর অন্তর্গত। অধিনায়ক : লে. জে. সগৎ সিং। ৪. উত্তর-পূর্ব সেক্টর : জামালপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, সাভার, টঙ্গী এলাকা ছিল এর অন্তর্ভুক্ত। অধিনায়ক : মেজর জেনারেল ওরবকশ সিং জিল, জামালপুরে তিনি আহত হলে মেজর জেনারেল জিসি নাগরা দায়িত্ব নেন।

স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা

পরিশেষে বলা যায়, মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয় যৌথ বাহিনী। যৌথ বাহিনীর। সর্বাত্মক আক্রমণে পাকিস্তান বুঝতে পারে এ যুদ্ধে তাদের টিকে থাকা সম্ভব নয়। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর এই যৌথ বাহিনীর কাছেই পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ৩০ প্রশ্ন : ৫৭। মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অবদান আলােচনা কর। অথবা, মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর ভূমিকা লিখ। | পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক গণহত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযােগের ফলে বাংলার নারী-পুরুষ রুখে দাঁড়ায়। তারা সর্বাত্মক প্রতিরােধ গড়ে তােলে। সম্মুখ যুদ্ধ, গেরিলা আক্রমণে তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে তােলে। দীর্ঘ কয়েক মাস যুদ্ধ করার পর গঠিত হয় বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ বাহিনী যার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অভ্যুদয় হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের।

মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অবদান : মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অসামান্য অবদান রয়েছে। নিম্নে মুক্তিযুদ্ধে যৌথ । বাহিনীর অবদানসমূহ উল্লেখ করা হলাে : ১. পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান : বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী ৪ ডিসেম্বর থেকে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা শুরু করে। বিমান বাহিনী পাকবাহিনীর বিভিন্ন। সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। যৌথ বাহিনীর সর্বাত্মক আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে দাড়ায়। ২. যশাের ক্যান্টনমেন্টের পতন ও সিলেট বিজয় : যৌথ বাহিনীর আক্রমণে ৭ ডিসেম্বর যশাের | ক্যান্টনমেন্টের পতন ঘটে। পাক সেনারা খুলনায় পালিয়ে যায়। ইতােমধ্যে সিলেট শহরটিও যৌথ বাহিনীর দখলে আসে। যৌথ বাহিনীর ছত্ৰী সেনারা সিলেটের পাক ঘাঁটিগুলাের উপর আক্রমণ চালায়।

সিলেটের পাক অধিনায়ক আত্মসমর্পণ

ফলে সিলেটের পাক অধিনায়ক আত্মসমর্পণ। করতে বাধ্য হয়। ৩. ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট অবরােধ ও পাকসেনাদের আহ্বান : যৌথ বাহিনী ৮ ডিসেম্বর ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট অবরােধ করে। যৌথ কমান্ডের প্রধান জেনারেল মানেকশ পাকবাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। তিনি পাক সেনাদের সাবধানী বাণী উচ্চরণ করে বলেন যে, তাদের পালাবার সকল পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৪. ঢাকা অবরােধ : যৌথ বাহিনী ৯ ডিসেম্বর চতুর্দিক থেকে ঢাকার দিকে অগ্রসর হয়। তখন তাদের লক্ষ্য ছিল। দ্রুত ঢাকায় পৌছানাে এবং ঢাকার পাকবাহিনীর মনােবল সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে নিয়াজিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যৌথ বাহিনী গঠন একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ।। পাকবাহিনীর গণহত্যা, অবাধ ধ্বংসলীলা ও চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বাঙালিরা প্রাথমিকভাবে প্রতিরােধ করে। অতঃপর শুরু হয়। সশস্ত্র প্রতিরােধ, গড়ে উঠে নিয়মিত বাহিনী, সেনাবাহিনী, মুক্তিবাহিনী, গণপ্রতিরােধ ও জনযুদ্ধ। দীর্ঘ কয়েক মাস যুদ্ধ। করার পর গঠিত হয় যৌথ বাহিনী যার মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

যৌথ বাহিনী : বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর (ভারতের সশস্ত্র বাহিনী) সমন্বয়ে গঠিত যৌথ। কমান্ড’ই যৌথ বাহিনী নামে পরিচিত। ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ড গঠনের প্রস্তুতি চলে যা কার্যকর হয় ৩ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাপতি মানেক শ’ ছিলেন এর প্রধান। তবে যৌথ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন। ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় সেনাধ্যক্ষ লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরােরা। চিপ অব স্টাফ ছিলেন মেজর জেনারেল জে. এফ.। আর জ্যাকব। যৌথ বাহিনী বাংলাদেশের গােটা রণাঙ্গনকে ৪টি ভাগে ভাগ করে। যথা ১. উত্তর-পশ্চিম সেক্টর : রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও রাজশাহী এর অন্তর্গত। অধিনায়ক : লে. জে, এম এল জাপান।।

পশ্চিম সেক্টর : যশাের, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, খুলনা এর অন্তর্গত। এল রাইনা।। ৩. দক্ষিণ-পূর্ব সেক্টর : মৌলভীবাজার, সিলেট, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ভৈরববাজার, দাউদকান্দি, নােয়াখালী, চট্টগ্রাম ছিল এর অন্তর্গত। অধিনায়ক : লে. জে. সগৎ সিং। ৪. উত্তর-পূর্ব সেক্টর : জামালপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, সাভার, টঙ্গী এলাকা ছিল এর অন্তর্ভুক্ত। অধিনায়ক : মেজর জেনারেল ওরবকশ সিং জিল, জামালপুরে তিনি আহত হলে মেজর জেনারেল জিসি নাগরা দায়িত্ব নেন। ‘

পরিশেষে বলা যায়, মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয় যৌথ বাহিনী। যৌথ বাহিনীর। সর্বাত্মক আক্রমণে পাকিস্তান বুঝতে পারে এ যুদ্ধে তাদের টিকে থাকা সম্ভব নয়। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর এই যৌথ বাহিনীর কাছেই পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করে। মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অবদান আলােচনা কর। অথবা, মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর ভূমিকা লিখ। | এস. পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক গণহত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযােগের ফলে বাংলার নারী-পুরুষ রুখে দাঁড়ায়। তারা সর্বাত্মক প্রতিরােধ গড়ে তােলে। সম্মুখ যুদ্ধ, গেরিলা আক্রমণে তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে তােলে। দীর্ঘ কয়েক মাস যুদ্ধ করার পর গঠিত হয় বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ বাহিনী যার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অভ্যুদয় হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের।

মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অবদান

মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অসামান্য অবদান রয়েছে। নিম্নে মুক্তিযুদ্ধে যৌথ । বাহিনীর অবদানসমূহ উল্লেখ করা হলাে : ১. পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান : বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী ৪ ডিসেম্বর থেকে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা শুরু করে। বিমান বাহিনী পাকবাহিনীর বিভিন্ন। সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। যৌথ বাহিনীর সর্বাত্মক আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে দাড়ায়। ২. যশাের ক্যান্টনমেন্টের পতন ও সিলেট বিজয় : যৌথ বাহিনীর আক্রমণে ৭ ডিসেম্বর যশাের |

ক্যান্টনমেন্টের পতন ঘটে। পাক সেনারা খুলনায় পালিয়ে যায়। ইতােমধ্যে সিলেট শহরটিও যৌথ বাহিনীর দখলে আসে। যৌথ বাহিনীর ছত্ৰী সেনারা সিলেটের পাক ঘাঁটিগুলাের উপর আক্রমণ চালায়। ফলে সিলেটের পাক অধিনায়ক আত্মসমর্পণ। করতে বাধ্য হয়। ৩. ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট অবরােধ ও পাকসেনাদের আহ্বান : যৌথ বাহিনী ৮ ডিসেম্বর ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট অবরােধ করে। যৌথ কমান্ডের প্রধান জেনারেল মানেকশ পাকবাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। তিনি পাক সেনাদের সাবধানী বাণী উচ্চরণ করে বলেন যে, তাদের পালাবার সকল পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৪. ঢাকা অবরােধ : যৌথ বাহিনী ৯ ডিসেম্বর চতুর্দিক থেকে ঢাকার দিকে অগ্রসর হয়। তখন তাদের লক্ষ্য ছিল। দ্রুত ঢাকায় পৌছানাে এবং ঢাকার পাকবাহিনীর মনােবল সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে নিয়াজিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।

আরো পড়ুন:

Masud

আমি মাসুদ রানা। Studytimebd.com একটি শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট। আমি এখানে সকল শিক্ষামূলক তথ্য প্রকাশ করে থাকি। এই ওয়েবসাইটে যে বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয় তার মাঝে প্রধান ক্যাটেগরি গুলো হলো লেখাপড়া, পরীক্ষার প্রস্তুতি, বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি।

View all posts by Masud →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *