বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সফলতার কারণগুলাে আলোচনা করা হলো

যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১২ ডিসেম্বর চতুর্দিকে পাকবাহিনীর। ‘ প্রতিরােধ ভেঙে পড়ে। শত্রুমুক্ত হয় জামালপুর, ময়মনসিংহ, হিলি, গাইবান্ধা, বাহাদুরিয়া, দুর্গাদীঘি, ফুলছড়ি, বিশ্রাম । চণ্ডীপুর, পিসপাড়া প্রভৃতি অঞ্চল।। উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, যৌথ বাহিনীর সর্বাত্মক আক্রমণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পিছু হটতে থাকে। প্রতিদিনই আসতে থাকে পাকবাহিনীর পরাজয় আর যৌথ বাহিনীর বিজয়ের খবর। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ পাকিস্তানি। বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। ৩২ প্রশ্ন : ৫৮। মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর সফলতার কারণগুলাে উল্লেখ কর। অথবা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর সফলতার কারণগুলাে সংক্ষেপে লিখ।

বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সফলতা

সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জাতির জীবনে সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা । পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠীর অত্যাচার, শােষণ আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলায় আপামর জনসাধারণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার এক চূড়ান্ত ও দুর্বার সংগ্রামই ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। পশ্চিম পাকিস্তানের ভয়াল থাবাকে উপেক্ষা করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে লক্ষ কোটি জনতা। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বােনদের ইজ্জতের। বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। যুদ্ধে পাকিস্তানিরা সৈন্য, অস্ত্র ও শক্তির দিক থেকে শক্তিশালী থাকলেও মুক্তিযােদ্ধাদের দক্ষ সংগঠন, নেতৃত্ব ও কৌশলের কাছে তারা পরাজয় মানতে বাধ্য হয়।

মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনীর সফলতার কারণ : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সামরিক নেতৃত্ব দানকারী যৌথ বাহিনীর সফলতার পিছনে অনেক কারণ বিদ্যমান রয়েছে। নিম্নে এ কারণগুলাে সংক্ষেপে আলােচনা করা হলাে : ১. দক্ষ নেতৃত্ব : বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে গঠিত সামরিক সংগঠন যৌথ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিল সমসাময়িক সময়ের রণকৌশল সম্পর্কে অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। তাদের সুদক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতৃত্ব দান যৌথ বাহিনীর। সকল আক্রমণকে সফলতায় রূপ দান করেছিল। যার চূড়ান্ত ফলাফল এসেছিল ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে ।। | ২. বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষকে সমর্থন : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করে।

বিদেশি সাংবাদিকদের সাহসিকতা

বিদেশি সাংবাদিকদের সাহসিকতায় পাকবাহিনীর অত্যাচারের চিত্র বহির্বিশ্বের জনগণ দেখতে পায়। যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। অবস্থান নিলেও সেদেশের জনগণ, প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং বুদ্ধিজীবীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান। নেয়। তাদের সাহস, উৎসাহ, অনুপ্রেরণা যৌথ বাহিনীর সফলতার অন্যতম কারণ ছিল। ৩. ভারতের সহযােগিতা : মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বাংলাদেশের ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ভারতের সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে যৌথ বাহিনী গঠন। ভারতের প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী কর্তক। বাঙালি সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতাে। ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতাে।

ভারত সরকার। বাংলাদেশকে প্রচর পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র ও অন্যান্য কলাকৌশল দিয়ে সহায়তা করেছিল। ভারতের সহায়তায়ই গড়ে উঠে যৌথ। বাহিনী, যারা পাকবাহিনীকে পরাস্ত করতে সফল হয়। ক. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত পাকবাহিনীকে পরাজিত করে সাফল্য ছিনিয়ে আনার পিছনে নিরস্ত্র ও অপ্রস্তুত বাঙালিদের দেশপ্রেম এবং দেশের ও হয় এ অপরূত বাঙালিদের দেশপ্রেম এবং দেশের প্রতি অগাধ ভালােবাসাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। হয়। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা দেশকে ভালােবাসে, দেশের মাটিকে ভালােবাসে, দেশের স্বাধীনতাকে ভালো জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।। . বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর অভাবে এবং আধুনিক সামরিক অস্ত্রশস্ত্র না থাকার কারণে। যােদ্ধারা গেরিলা কৌশল অবলম্বন করেন। মরুর দেশের বর্বর পাকবাহিনী কখনই চতুর বাঙালিদের। যৌথ বাহিনীসহ সকল যােদ্ধারা গেরিলা কৌশল অবলম্বন করেন। মরুর ০ কত না। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা কখনাে কৃষক, কখনাে ভিখারি, কখনাে কামার আবার কখনাে বা মিলিটারি বেশে পাক বাহিনীদের পরাত কাঠিনীদের পরাস্ত করতাে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গেরিলা কৌশল বহির্বিশ্বে অত্যন্ত প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট অনেক বড়

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট অনেক বড়। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল ক্ষণস্থায়ী। কাউই এত কম সময়ে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এই সাফল্যের পিছনে বাংলাদেশের সর্বস্তরের বিশ্বের খুব কম রাষ্ট্রই এত কম সময়ে যুদ্ধ করে স্বাধীন জনতার অবদান ছিল। তবে যৌথ বাহিনীর অবদান ছিল উল্লেখযােগ্য। তাদের দেওয়া নেততু, রণকৌশল, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল কৃতি সন্তানকে নিয়ে দেশ, জাতি গর্ববােধ করে। তালে। লাভ করে। তাদের এই সফলতার জন্য বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাম যুক্ত হয়।। অনার্স প্রথম বর্ষ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (আবশ্যিক)— ৬৭ ৫. গেরিলা পদ্ধতি : বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর।

আরো পড়ুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *