প্রাচীনকাল থেকেই সমাজে বুদ্ধিজীবীদের পদচারণা লক্ষণীয়

প্রাচীনকাল থেকেই সমাজে বুদ্ধিজীবীদের পদচারণা লক্ষণীয়। বুদ্ধিজীবীরা সমাজ পরিবর্তনের। কাণ্ডারি হিসেবে কাজ করে থাকে। তারা তাদের জ্ঞানদীপ্ত লেখনী, সভা, সেমিনার, পরামর্শ, বিবৃতি ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষের। চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন করে সামাজিক পরিবর্তনে অবদান রাখে। বুদ্ধিজীবীরা তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের সামাজিক । রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এমনকি প্রতিটি ক্ষেত্রে উল্লেখযােগ্য ভূমিকা পালন করছে। মূলত যেকোনাে সমাজে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বুদ্ধিজীবীদের অনন্য ভূমিকা রয়েছে। | বুদ্ধিজীবী কারা : বুদ্ধিজীবী বলতে সাধারণভাবে সমাজের সেই জনগােষ্ঠীকে বুঝায় যারা তাদের উন্নত মনন, বুদ্ধি। চেতনার মাধ্যমে সমাজের যুগােপযােগী চাহিদার সাথে শিক্ষা, প্রযুক্তি, দক্ষতা প্রভৃতির সম্মিলন ঘটিয়ে সমাজকে আরাে বেশি গতিশীল ও উন্নত করে তােলে।

Adward Shills-এর মতে, “যারা শিক্ষিত এবং সাধারণ কাজকর্মে চিন্তা-চেতনায় স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত তারাই । বুদ্ধিজীবী। নব্য রাষ্ট্রগুলােতে আধুনিক অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যারা জ্ঞানসম্পন্ন তারাই বুদ্ধিজীবী।” Michels-এর মতে, “যারা নিজেদের বিবেক বিচার ও বুদ্ধি দিয়ে ঘটনাকে বিশ্লেষণ করতে পারে তারাই হলাে বুদ্ধিজীবী।” Srills-এর মতে, “কোনাে ডিগ্রি নেই কিন্তু সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিরাও এক প্রকার বুদ্ধিজীবী।” কার্ল ম্যানহাইনের মতে, “প্রত্যেক সমাজে নানা গােষ্ঠীভুক্ত এমন কিছু লোেক থাকে যাদের কাজ হলাে সেই সমাজের। জীবনাদর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি রচনা ও ব্যাখ্যা করা। যারা সমাজের এই জীবনদর্শন ব্যাখ্যা করে তারাই বুদ্ধিজীবী সমাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যােগ্য।

বুদ্ধিজীবীরা সমাজ পরিবর্তনের। কাণ্ডারি

পরিশেষে বলা যায় যে, সেই সকল ব্যক্তিগণই বুদ্ধিজীবী, যাদের অগ্রসরমান আধুনিক শিক্ষা রয়েছে। এবং সেইসাথে বুদ্ধিজীবী চেতনা ও দক্ষতা রয়েছে। 33 প্রশ্ন ৫০% বুদ্ধিজীবী হত্যা সম্পর্কে আলােচনা কর। ইডেন ম. ক. ঢাকা, নি, প,-‘১৪] অথবা, ১৯৭১ সালের বুদ্ধিজীবী হত্যা সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা দাও। কারমাইকেল ক, রংপুর, নি. প.-‘১৪] ” অথবা, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সম্বন্ধে কি জান? | সি. এম. এম. ক, যশাের, নি. প.-‘১৫] উত্তর : ভূমিকা : ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ইতিহাসের একটি জঘন্য, নৃশংসতম ও বর্বরােচিত। ঘটনা। পাক সামরিক জান্তা মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে নিশ্চিত পরাজয়ের প্রতিশােধ গ্রহণার্থে বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।। এ যুদ্ধে বাংলার সূর্য সন্তানদের অর্থাৎ শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, আইনবিদ, রাজনীতিবিদ প্রমুখকে সুপরিকল্পিতভাবে নিধন করা হয়।

পাকিস্তানি সামরিক শাসকগােষ্ঠীর নির্দেশনা ও মদদে এক শ্রেণীর দালাল এই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যা : পূর্ব পাকিস্তান বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করার এ নীলনকশা। প্রণয়ন করেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। অভিযােগ রয়েছে যে,। হানাদার বাহিনী থেকে অস্ত্রশস্ত্র ও সার্বিক সাহায্য নিয়ে তাদেরই ছত্রছায়ায় প্যারামিলিটারি রাজাকার, আল-বদর, আলশামস প্রভৃতি বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডাররা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। তারা বুদ্ধিজীবীদেরকে তাদের প্রতিপক্ষ অভ্যন্তরীণ শত্রু,। ভারতীয় চর প্রভৃতি নামে চিহ্নিত করে। তাই তারা মুক্তিযােদ্ধাদের পাশাপাশি নিরস্ত্র ও নিরীহ বাঙালি জাতির বিবেক বুদ্ধিজীবীদের হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রি থেকে ১৬ ডিসেম্বরের পূর্ব পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকে।

বুদ্ধিজীবীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাড়ি হতে ধরে নিয়ে প্রায়শ কালাে কাপড়ে চোখ বেধে নেওয়া হতাে। নিকটস্থ কোনাে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে তাদের। উপর নির্মম দৈহিক নির্যাতন ও বেয়ােনেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করা হতাে। অনেককেই বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করা হতাে। ১৪ ডিসেম্বর বিজয়ের পূর্বক্ষণে পাকবাহিনী ও তাদের মিত্ররা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। বুদ্ধিজীবীদের। অপহরণ করে মােহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র বা আল-বদর সদর দপ্তরে নেওয়া হতাে। ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পূর্বে বুদ্ধিজীবীদের ব্যাপকভাবে হত্যা করা হয়। মােহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বধ্যভূমি, মিরপুর। বধ্যভূমিতে ডােবানালা, নিচু জমি ও ইটের পাজার মধ্যে বহুসংখ্যক মৃতদেহ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের বুকে, মাথায় ও পিঠে ছিল বুলেটের আঘাত এবং সারাদেহে বেয়ােনেটের ক্ষতচিহ্ন।

পরিশেষে বলা যায় যে, বাঙালিকে মেধাশূন্য করার পাকিস্তানি পরিকল্পনাকেই আল-বদর, আলশামসরা নিষ্ঠুরভাবে বাস্তবায়ন করে। উল্লেখ্য ১৪ ডিসেম্বর প্রতিবছর শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশ নামক প্রামাণ্য গ্রন্থের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা মােট ১.১০৯ জন। এদের মধ্যে ছিলেন। শিক্ষাবিদ ৯৯১ জন, সাংবাদিক ১৩ জন, চিকিৎসক ৪৯ জন, ৪২ জন আইনজীবী এবং সাহিত্যিক, শিল্পী ও প্রকৌশলী। ছিলেন ১৬ জন। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ইতিহাসে বর্বরােচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত।

ধ্যভূমি সম্পর্কে টীকা

বধ্যভূমি সম্পর্কে টীকা লিখ। অথবা, ১৯৭১ সালের বধ্যভূমি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলােচনা কর। উত্তর : ভূমিকা ঃ ১৯৭১ সাল বাঙালি জাতির জন্য এক বিরাট ত্যাগ-তিতিক্ষা, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, আত্মােৎসর্গ ও সব। হারিয়ে মুক্ত আকাশ, বাতাস সমৃদ্ধ বাংলাদেশ লাভের মাস। এসময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র, নিরীহ বাঙালিদের। উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা নির্মম হত্যাকাণ্ড পরিচালিত করে পুরাে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। যার মধ্যে অন্যতম। ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড। | ১৯৭১ সালের বধ্যভূমি : পাক হানাদার বাহিনী নির্দিষ্ট কিছু কিছু স্থানে অনেকগুলাে লােককে ধরে নিয়ে হত্যা করে ফেলে রাখত। ঐ স্থানকে বধ্যভূমি বলে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পূর্বক্ষণে (১৪ ডিসেম্বর) স্বাধীনতা যখন অনিবার্য হয়ে উঠে তখন পাকবাহিনী ও তাদের মিত্ররা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ করে মােহাম্মদপুর। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র বা আল-বদর সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পূর্বে ।

বুদ্ধিজীবীদের ব্যাপকভাবে হত্যা করা হয়। শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নানান অত্যাচারের পর বাসে করে রায়ের বাজার (মােহাম্মদপুর), শিয়ালবাড়ি, মিরপুর প্রভৃতি বধ্যভূমি, কবরস্থান ও জল্লাদখানায় নিয়ে তাদের রক্তে রঞ্জিত করা হয়। ঢাকার বাইরে অন্যান্য শহরেও এরূপ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মৃত্যুর পর অনেকের লাশও খুঁজে পাওয়া যায় নি। স্বাধীনতার পর। লাশের পর লাশের স্তুপ দেখা যায়। সেখানে অনেকের হাত-পা, চোখ বাঁধা ছিল। কারাে কান, নাক, হৃৎপিণ্ড ছিল না, মুখের। চেহারা বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। এভাবেই বুদ্ধিজীবীদের রক্তগঙ্গা বইয়ে যায়। উল্লেখ্য, ১৪ ডিসেম্বর প্রতি বছর শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়। বাঙালিকে মেধাশূন্য করার পাকিস্তানি পরিকল্পনাকেই আল-বদর, আল-শামসরা নিষ্ঠুরভাবে বাস্তবায়ন করে। এ হত্যাকাণ্ডের হােতাদের মধ্যে অনেকের নাম শােনা যায়। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা।

বাংলাদেশ’ নামক প্রামাণ্য গ্রন্থের পরিসংখ্যান

আজো নিরূপিত হয় নি। তাদের কোনাে পূর্ণাঙ্গ তালিকাও পাওয়া যায় নি। বাংলাদেশ’ নামক প্রামাণ্য গ্রন্থের পরিসংখ্যান। অনুযায়ী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা মােট ১,১০৯ জন। উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য পাকিস্তানি হানাদাররা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের এমনি নির্মমভাবে হত্যা করে। ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যায় বাংলাদেশে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তারা ছিল। দেশের মস্তিষ্ক, বিবেক ও শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের হত্যার ফলে দেশে শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অফিসিয়াল কাজকর্ম প্রভৃতি। সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা বেঁচে থাকলে দেশ ও জাতি আরাে সমৃদ্ধ হতাে। ১০ প্রশ্ন : ৫২। গণকবর সম্পর্কে টীকা লিখ। অথবা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণকবর সম্পর্কে আলােচনা কর। উত্তর : ভূমিকা : গণহত্যা বা জেনােসাইড একটি আতঙ্কজনক ও ঘৃণ্যতম শব্দ। গণহত্যার অর্থ হলাে জাতি। হত্যা।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত গণহত্যা পরিচালনা করে। গণহত্যার পর এসব লাশকে গণকবরে সমাহিত করা হয়। | গণকবর : পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের নির্মম হত্যাকাণ্ড পরিচালিত করে ঢাকাসহ এক যােগে চট্টগ্রাম বিভাগ, খুলনা বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগের সর্বত্র মিল্লা, বগুড়া, সৈয়দপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে। তাদের এই হত্যাকাণ্ড হতে। পরিত্রাণ পায় নি শিশু, বৃদ্ধ, বালক যুবক তরুণ নারী পুরুষ কেউই। সারাদেশে রাজাকার বাহিনী, আল-বদর, আল-শামস, । শান্তি কমিটির সদস্য এবং তথাকথিত ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগ পাকিস্তান বাহিনীর। সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধের সময় সারা বাংলাদেশে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়। এরা মানুষ নামে কলঙ্ক। গণহত্যার পর স্বয়ং হানাদার। বাহিনীরাই লাশ দাফন না করে গণকবর দিয়ে যায়। অনেক সময় স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ লাশ পরিষ্কার করতে এবং লাশ শনাক্ত | করতে না পেরে গণকবর দেয়। একসঙ্গে অনেক লাশ গর্ত খুঁড়ে পুঁতে রাখাকেই গণকবর বলা হয়। মূলত এদের লাশের। সংখ্যা বুঝতে না দেওয়া ও প্রমাণ লুকিয়ে ফেলার জন্য বাংলাদেশের বহু স্থানে অসংখ্য গণকবর দেওয়া হয়েছিল। আবার । অনেক সময় নদীতেও বহু লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

পিরশেষে বলা যায় যে, সমস্ত স্থানে একসাথে অনেক মৃতদেহ পুতে রাখা হয় সে সমস্ত স্থানকে গণকরব বলে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা তা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে এ গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেলেও সংরক্ষণের। অভাবে অনেক গণকবর আজ বিলুপ্তপ্রায়। ৩৩ প্রশ্ন : ৫৩। পাকিস্তানে কাজ বালে বন্দী অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর বিচার ও বিশ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। উত্তর : ভূমিকা : ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সােহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল জনসমুদ্রের সম্মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বাথানতা ঘােষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী গােপনে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে। জেনারেল ইয়াহিয়া খান হিয়া খান প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলােচনা করলেও গােপনে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি যা বিশ্ব বিবেককে এর বিরুদ্ধে সােচ্চার করে তােলে। র করে পাকিস্তানে নিয়ে যায় এবং বিচারের নামে প্রহসন শুরু নেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক সেনাবাটি

আরো পড়ুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *