স্বাধীন বাংলার জাতীয় পতাকা অর্জনের পিছনে যেসব ভূমিকা রয়েছে

পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলার জাতীয় পতাকা ১৯৭০ সালের ৮ জানুয়ারি ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং মুন্সিগঞ্জে উত্তোলন করে। পরে সিরাজ শিকদার এ আন্দোলন বিলপ্ত। করে দিয়ে পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টি গঠন করেন। এ পার্টি টাঙ্গাইল, বরিশাল এবং ঢাকার পাকিস্তান কাউন্সিল কেন্দ্র, মার্কিন তথ্যকেন্দ্র প্রভৃতি অফিসে বােমা নিক্ষেপ করে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত সর্বহারা বাহিনীর নেতৃত্বে পাঁচটি জেলায় গেরিলা। যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়। ” (v) তােয়াহার নেতৃত্বে কমিউনিস্ট দল : উপরিউক্ত বামপন্থি রাজনৈতিক দলসমূহ ছাড়াও কমিউনিজম। সমর্থক একটি অংশ নােয়াখালী ও রামগতিতে গেরিলা সৈন্য সংগ্রহ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলার জাতীয় পতাকা

তারা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে চীনের ভূমিকার সমালােচনা করে এবং আওয়ামী নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারতের। সম্প্রসারণবাদ ও সােভিয়েত ইউনিয়নের সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে। তাই আওয়ামী নেতৃত্বকে অস্বীকার করে। খাটি কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন জেলায় অবস্থান গ্রহণ করে। . উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, মুক্তি সংগ্রামকে সাফল্যমণ্ডিত করে স্বাধীন বাংলাদেশ কায়েম করতে মুজিবনগর । সরকারকে অত্যন্ত গুরুদায়িত্ব বহন করতে হয়। মুজিবনগর সরকারকে মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনায় পরামর্শ দেওয়ার জন্য। সেপ্টেম্বর মাসে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জনাব তাজউদ্দিন আহমদ ও খন্দকার মােশতাক আহমদ, আওয়ামী লীগের দুজন প্রতিনিধি ছাড়াও মওলানা ভাসানী, অধ্যাপক। মােজাফফর আহমদ, শ্রী মণি সিং এবং কংগ্রেস দলীয় শ্রী মনােরঞ্জন ধরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে কতকগুলাে দক্ষিণপন্থি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরােধিতা করে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার প্রতি সমর্থন যােগায়। এসব দলের মধ্যে ছিল জামায়াতে ইসলামি, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামি, পিডিপি ইত্যাদি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় ও বীর বাঙালির জয়ের কারণসমূহ লিখ। অথবা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়ের কারণসমূহ লিখ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রায় দু’শ বছরের ব্রিটিশ নাগপাশ ছিন্ন করতে অকুতােভয় বাঙালিরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। কিন্তু স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র অর্জন করলেও তাদের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় নি। পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী পূর্ববাংলার জনগণ তথা বাঙালিদেরকে বিভিন্ন কূটকৌশলে অবদমিত করার প্রয়াস চালায়। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও ঘােষণা অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে না দিয়ে শাসকগােষ্ঠী বিভিন্ন কূটকৌশল অনুসরণ করে। ফলে বাঙালি জাতি স্বায়ত্তশাসনের থেকে ক্রমাগত স্বাধীনতার দিকে ঝুঁকতে থাকে। এমনি পরিস্থিতিতে পাকবাহিনী ২৫ মার্চ অতর্কিত নিরস্ত্র। বাঙালির উপর ঝাপিয়ে পড়ে।

শুরু হয় পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠীর বিরুদ্ধে বীর বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। এ মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন বিষয় প্রভাব বিস্তার করে। যেগুলাে একদিকে বীর বাঙালি তথা বাংলাদেশের পক্ষে বিজয়ের এবং অন্যদিকে তা পাকিস্তানি। বাহিনীর পক্ষে পরাজয়ের কারণ হয়ে দাড়ায়। পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় ও বীর বাঙালির জয়ের কারণ : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর। বিজয় অর্জন ও পাকিস্তানি বাহিনীর

পরাজয়ের পিছনে লক্ষণীয় কারণসমূহ নিম্নরূপ

ভৌগােলিক অবস্থান : ভৌগােলিক দিক থেকে পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের দূরত্ব ছিল প্রায় দেড় হাজার মাইল। তাছাড়া পূর্ব পাকিস্তানের ৩ দিক ভারতবেষ্টিত ও একদিকে সমুদ্র, যা ভারতের সন্নিকটে। শুধু পাহাড় ও পানিবেষ্টিত দক্ষি|-পূর্ব দিকে বাম সীমান্ত ছিল খােলা, যেখান থেকে আক্রমণ রচনা প্রায় অসম্ভব। তাই পাকবাহিনী এতদুর ও দুর্গম স্থানে অপারেশন। চালিয়ে সফল হতে পারে নি। আবার, পাকবাহিনীর পালাবারও পথ ছিল না। ফলে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। ২. জলবায়ু : এদেশের মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মােটামুটি বর্ষাকাল।

এদেশের জলবায়ু সম্পর্কে মুক্তিবাহিনীরাই ভালাে অবগত ছিল। তাই নিজস্ব ভূমিতে যুদ্ধ করা তাদের জন্য সহজ ছিল, যা পাকবাহিনীর বিপক্ষে ছিল। ৩. রাজনৈতিক কারণ : পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই শাসকগােষ্ঠী বাঙালিদের ক্ষমতার ন্যায্য হিস্যা থেকে। বঞ্চিত করে। এভাবে শেষ পর্যন্ত পদে পদে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে বঞ্চনা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে। ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে আলােচনা ও আপসরফার পথ বন্ধ হয়ে যায়। বাঙালিরা সশস্ত্র সংগ্রামের পথে এগিয়ে যায়। ও সাফল্য লাভ করে। ফলে অখণ্ড পাকিস্তান বিলুপ্ত হয়। ৪. অর্থনৈতিক কারণ : পাকিস্তানিদের সীমাহীন অর্থনৈতিক শােষণ, বৈষম্য, পূর্ব পাকিস্তান হতে পশ্চিম পাকিস্তানে। সম্পদ পাচার প্রভৃতি বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অর্থনৈতিকভাবে পাকিস্তান এ প্রদেশকে তাদের উপনিবেশে। পরিণত করে। নির্মম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সম্পদ পাচার বাঙালিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়।

আরো পড়ুন:

Masud

আমি মাসুদ রানা। Studytimebd.com একটি শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট। আমি এখানে সকল শিক্ষামূলক তথ্য প্রকাশ করে থাকি। এই ওয়েবসাইটে যে বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয় তার মাঝে প্রধান ক্যাটেগরি গুলো হলো লেখাপড়া, পরীক্ষার প্রস্তুতি, বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি।

View all posts by Masud →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *