সমাজে ও দেশে নারী ভূমিকা সকল ভালো দিক গুলো আলোচনা করা হলো

অনেক নারী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের ময়দানে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নি ঠিকই কিন্তু। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধের সরঞ্জাম ও অস্ত্র বহন করতেন। অনেক সময় তারা ছদ্মবেশে এ কাজ করতেন। ৩. মুক্তিযােদ্ধাদের আশ্রয় ও খাদ্য প্রদান : মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যােদ্ধাদের বিশ্রামের জন্য নিরাপদ। আশ্রয় ও খাদ্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। সেই সংকটকালে গ্রামবাংলার নারীসমাজ এই গুরুদায়িত্ব পালন করেছিল। তারা শুধুমাত্র আশ্রয় ও খাদ্যই নয়; বরং যুদ্ধাহত মুক্তিযােদ্ধাদের চিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে তাদের সুস্থ করে তােলেন। ৪. ছদ্মবেশে তথ্য সংগ্রহ : এদেশ দ্রুত স্বাধীন করতে এবং মুক্তিযােদ্ধাদের সাহায্য সহযােগিতা করতে অনেক।

দেশে নারী ভূমিকা সকল ভালো দিক

নারী ছদ্মবেশে তথ্য সংগ্রহ করে বেড়াতেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি মুক্তিযােদ্ধাদের কাছে পৌছে দিতেন। ৫. মুক্তিযুদ্ধের প্রচার-প্রচারণা : নারীদের বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার সাথে সাথে ব্যক্তি পর্যায়ে অনেক নারী। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দেন। দেশের ভিতর এবং বহির্বিশ্বে এই প্রচারণা চালানাে হয়। বিভিন্ন মিডিয়া। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে এই প্রচারণা চালানাে হয়। এর ফলে দেশের মানুষ ও বিশ্ববিবেক পাকিস্তানি। শাসকগােষ্ঠীর বিরুদ্ধে সােচ্চার হয়ে উঠে। ৬. দেশের জন্য সন্তান উৎসর্গ : নিজের গর্ভের সন্তান নারীর সবচেয়ে বড় ধন। সেই অমূল্য ধনকে দেশের। জন্য উৎসর্গ করতে বাংলার নারীসমাজ এতটুকু পিছপা হয় নি।

মা তার সন্তানের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সন্তানের মায়ার চেয়ে দেশকে বড় করে দেখেছে বাংলার নারীসমাজ।। ৭. দেশের জন্য আত্মােৎসর্গ : বাংলার নারীসমাজ দেশের জন্য আত্মােৎসর্গ পর্যন্ত করেছে। লক্ষ লক্ষ নারী তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে। অনেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের। হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন। | উপসংহার । পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধে তাদের দুর্বার উপস্থিতি লক্ষণীয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন, গেরিলা তৎপরতা চালিয়েছেন, যুদ্ধে আহত হয়েছেন এবং অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন। একথা অনস্বীকার্য যে, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নারীদের। পাশাপাশি আদিবাসী নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভূমিকা সংক্ষেপে লিখ। অথবা, মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভূমিকা সংক্ষেপে আলােচনা কর ।। উত্তর : ভূমিকা : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভূমিকা ও অবদান অপরিসীম। বাংলার কৃষক লাঙল। ফেলে মুক্তিযুদ্ধে গেছে, শ্রমিক কারখানার কাজ ফেলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। এছাড়া জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার। সকলেই সর্বশক্তি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বস্তুত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে এটি। গণযুদ্ধে পরিণত হয়।। মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভূমিকা/ অবদান : নিম্নে মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভূমিকা/ অবদান সম্পর্কে। সংক্ষেপে আলােচনা করা হলাে : ১. মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে গণমানুষের ভূমিকা : মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে স্বতঃস্ফূর্ত প্রাথমিক ও গণপ্রতিরােধ শুরু হয়।

১৯ মার্চ জয়দেবপুরে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করতে গেলে হাজার হাজার সাধারণ | জনতা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে তাদের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সংগ্রাম পরিষদ কমিটি যুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং গণপ্রতিরােধ গড়ে তােলে।। ২. মুক্তিযুদ্ধে যােগদান : মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় অবদান হলাে যুদ্ধে যােগদান। সম্মুখসমর, গেরিলা যুদ্ধ, সড়ক-সেতু, বিদ্যুৎ লাইন ধ্বংস ও বিচ্ছিন্ন, তথ্য সংগ্রহ, গােয়েন্দাগিরি প্রভৃতির মাধ্যমে বাংলার সাধারণ মানুষ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনে অবদান রাখে। | ৩. মুক্তিযােদ্ধাদের সংগঠিত করা : মুক্তিযােদ্ধাদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান। রাখে। রংপুরের সম্মানীপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষকের সন্তান যুবক শাহেদ আলী মার্চের শুরুতে এলাকার লােকজনকে সংগঠিত করেছিল যুদ্ধে যাওয়ার জন্য। ৪. আশ্রয় ও খাদ্য প্রদান ও গ্রামের কৃষক ও সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে মুক্তিযােদ্ধাদের আশ্রয়। দিয়েছেন, দিয়েছেন খাবারের যােগান। শেরপুর শহর থেকে ১০ কিলােমিটার দূরে অবস্থিত বানিয়াপাড়া, সূর্যদি ও আন্ধারিয়া ছিল এমন গ্রাম। যে গ্রামের সকল কৃষকের ঘর ছিল মুক্তিযােদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের যােগানদার।। দরিদ্র এ মানুষগুলাে নিজেরা খেতে না পারলেও মুক্তিযােদ্ধাদের পাতে খাবার তুলে দিতেন।

৫ অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখা : সাধারণ মানুষের মুক্তিযুদ্ধে একটি উল্লেখযােগ্য অবদান হলাে। অসাময়িক সময়ে দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখা। এ প্রসঙ্গে মুক্তিযােদ্ধা আকবর হােসেন ভূঁইয়া বলেন, কৃষকরা। একাত্তরেও আমাদের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন, তারা সমাজের নিম্নশ্রেণীর মানুষ। শিক্ষা নেই বললেই চলে। এই। মানুষগুলােই ফসল ফলানাের পাশাপাশি গেরিলা যুদ্ধে এবং সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। ‘ উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সফল হতাে না যদি না সে যুদ্ধে সাধারণ মানুষের সমর্থন তথা অবদান থাকত। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ফলেই এই যুদ্ধ এক পর্যায়ে জনযুদ্ধে রূপ লাভ করে। বলা চলে।

অল্পকিছু পাকিস্তানি দালাল, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর লােক ব্যতীত অধিকাংশ মানুষই মুক্তিযুদ্ধে অংশ। নিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনে অবদান রাখেন। ৩০ প্রশ্ন : ৩৭। মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা উল্লেখ কর। অথবা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সংক্ষেপে লিখ। উত্তর : ভূমিকা : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা ছিল হতাশাব্যঞ্জক ও বিতর্কিত। তকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম নিক্সন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার মুক্তিযুদ্ধের পুরাে ৯ মাস। পাকিস্তান ঘেঁষা নীতি গ্রহণ করেন। তারা এ সময় পাকিস্তানকে সর্বপ্রকার নৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন যুগিয়েছিল। তবে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, বুদ্ধিজীবী মহল, প্রচারমাধ্যম, জনগণ, আমলা। প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল।

মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আমেরিকার মতাে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভ থেকেই নিক্সন সরকার ইয়াহিয়ার সামরিক সরকারের অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক ঘণ্য কার্যকলাপকে সমর্থন জানিয়ে আসছিল। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যখন বাংলাদেশের বিজয় সুনিশ্চিত তখন। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান বনাম ভারত-বাংলাদেশ’ যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব উত্থাপন করে। এ প্রস্তাবের উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের গতিবেগকে স্তিমিত করে পাকবাহিনীকে পুনরায় অস্ত্রে সজ্জিত হওয়ার সুযােগ প্রদান করা। যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ অভিমুখে সপ্তম নৌবহরও প্রেরণ করেছিল। কিন্তু সােভিয়েত ইউনিয়নের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত এ। নৌবহর প্রেরণ বন্ধ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমােক্রেটিক দলের উদারপন্থি নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সােচ্চার ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচার মাধ্যমের একটি অংশ।

মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে দ্বিধাহীনভাবে প্রচার চালিয়েছিল। ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশী জনগণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থক শ্রেণী এত। বিপুল পরিমাণ সাহায্য-সামগ্রী পাঠিয়েছিল যে, তার তুলনা কোনাে রাষ্ট্রের সাথে চলে না। এসব কারণে নিক্সন সরকার। বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের পর অনতিবিলম্বে স্বীকৃতি দেয় ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে এগিয়ে আসে। | উপসংহার । পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন নীতি পুরােপরি বাংলাদেশ বিরােধী ছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন নীতি ছিল মূলত নিক্সন-কিসিঞ্জার জুটির নীতি। তারা সর্বতােভাবে পাকিস্তান ঘেষা নীতি। অবলম্বন কৰে। তথাপিও সে দেশের সরকার ব্যতীত জনগণ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ সমর্থিত। হয়। যার কারণে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি বিশাল অংকের সাহায্য পেয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে সােভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা উল্লেখ কর। , আলে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সােভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা সংক্ষেপে লিখ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কালান সময়ে সােভিয়েত ইউনিয়ন ছিল তৎকালীন এক প্রবাস পরাশক্তি।

রাশিয়ার সমর্থন ও সহযোগিতায় বাংলাদেশের মুক্তিযু সমর্থন ও সহযােগিতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গতি পায় ও ক্রমান্বয়ে সাফল্যের দিকে অগ্রসর হয়। মস্কো স্বয়ং যথার্থভাবে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করেছে বলে মনে করে। মুলত মুক্তিসংগ্রামে। প্রকৃতপক্ষে এক্ষেত্রে মস্কো স্বয়ং যথার্থভাবে আন্তর্জাতিক দায়িত। শের জনগণের নৈতিক ও বস্তুগত উপাদান সহকারে সকল সাহায্য ও সমর্থন দিয়ে তাদের স্বাধীনতা। নিয়ােজিত বাংলাদেশের জনগণের নােতক ও বস্তুগত উপাদান সহ অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে। = সােভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র মার অবদান ছিল সর্বাধিক। ভারতের পরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সােভিয়েত রাশিয়া স্মরণযােগ্য।

সােভিয়েত রাশিয়ার অবদান ছিল সর্বাধিক। ভারতের পরে করে। বাংলাদেশে পাকবাহিনী যখন নির্বাচারে গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযােগ, নারী ধর্ষণের মতাে নারকীয় ভূমিকা পালন করে ল্প তখন সােভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান ইয়াহিয়া খানকে এ জঘন্য কাজ থেকে নিবৃত্ত হবার জন্য পত্রযােগে অনুরােধ। তনি নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরেরও অনুরােধ জানান। সােভিয়েত জনগণের সহানুভূতি ।

আরো পড়ুন:

Masud

আমি মাসুদ রানা। Studytimebd.com একটি শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট। আমি এখানে সকল শিক্ষামূলক তথ্য প্রকাশ করে থাকি। এই ওয়েবসাইটে যে বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয় তার মাঝে প্রধান ক্যাটেগরি গুলো হলো লেখাপড়া, পরীক্ষার প্রস্তুতি, বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি।

View all posts by Masud →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *