জাতিগত নিধন ও শুদ্ধি অভিযান বলতে বুঝো আলোচনা করা হলো

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক।  আন্দোলনের মাধ্যমে যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম হয় তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে সাধারণ নির্বাচনে। কিন্তু এ। নির্বাচনী রায়কে বানচাল করতে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। শুরু হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর লােমহর্ষক, বর্বরােচিত ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ । এরই বিরুদ্ধে জ্বলে উঠে পূর্ববাংলার মুক্তিপাগল জনতা, শুরু হয় মুক্তির সংগ্রাম।

জাতিগত নিধন ও শুদ্ধি অভিযান

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল বিমাতাসুলভ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা নিমে। আলােচনা করা হলাে : প্রথমত, পৃথিবী থেকে যুদ্ধের ধ্বংসলীলার ভয়াবহতা দূর করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, বিশ্বমানবাধিকার এবং মূল্যবােধ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু অগণতান্ত্রিক ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত রেখে বাঙালি জনগণের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে পাকিস্তান কর্তৃক নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে যাওয়াকে জাতিসংঘ প্রতিবাদ বা ধিক্কার জানায় নি।। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নারকীয় হত্যাযজ্ঞ শুরু করলেও তা বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘ কোনাে পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি।

তৃতীয়ত, পাকিস্তানি বর্বর সেনাবাহিনী কর্তৃক মৌলিক মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোনাে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে নি। চতুর্থত, মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধিকে জাতিসংঘে মুক্তি সংগ্রামের বিষয়ে কোনাে বক্তব্য রাখার সুযােগ দেওয়া হয় নি। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক জান্তার সমর্থক বাঙালি নেতাদের বক্তৃতা দেওয়ার সুযােগ দেওয়া হয়েছিল। | পঞ্চমত, যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানের সংকটকালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব করা হলে তা গ্রহণ করা হয়েছিল। যদিও সােভিয়েত রাশিয়ার প্রদত্ত ভেটো’র ফলে এ প্রস্তাব কার্যকর হয় নি।

লাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল খুবই

পরিশেষে বলা যায় যে,বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল খুবই। দুঃখজনক। কেননা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হলেও পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানে বর্বর হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে জাতিসংঘ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনাে ভূমিকা গ্রহণ না করে নীরব দর্শকের ভূমিকা। পালন করে। এমনকি পাকিস্তানি সমর্থক প্রতিনিধিকে জাতিসংঘে বক্তৃতা দানের সুযােগ দেওয়া হলেও বাংলাদেশ প্রতিনিধিকে অর্থাৎ মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধিকে সেই সুযােগ দেওয়া হয় নি। সুতরাং বিশ্বমানবতা ও বিশ্বমানবাধিকার। প্রতিষ্ঠার পতাকাবাহী জাতিসংঘ বাংলাদেশের নির্যাতিত অধিকারহারা জনগণের বিপক্ষে নির্লজ্জ ও দুঃখজনক ভূমিকা পালন করেছিল একথা বলা ভুল হবে না।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাক দখলদার বাহিনীর ভূমিকা সংক্ষেপে লিখ। অথবা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাক দখলদার বাহিনীর ভূমিকা উল্লেখ কর। উত্তর : ভূমিকা : মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঝেড়ে-মুছে চিরতরে নির্মূলের লক্ষ্যে উর্ধ্বতন পাকিস্তান সমরনায়করা।

যে মানবতাবিরােধী অপরাধ করে তা কিছুতেই ভােলা যায় না। মুক্তিযুদ্ধে পাক দখলদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট প্রস্তুত ছিল। শুধু কখন তা শুরু করতে হবে সেই সিদ্ধান্তটি ছিল জেনারেল ইয়াহিয়ার হাতে। যুগপৎ অতর্কিত আক্রমণ। চালিয়ে সারা দেশের সব শহরে আন্দোলন দমন করা ছিল তাদের পরিকল্পনা। মুক্তিযুদ্ধে তারা সে পরিকল্পনা অনুযায়ী। তাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যায়। | মুক্তিযুদ্ধে পাক দখলদার বাহিনীর ভূমিকা : একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী মানবতাবিরােধী অপরাধে যে ভূমিকা রাখে সেগুলাে হলাে : ১. গণহত্যা কালরাত থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাক দখলদার বাহিনী এদেশের নিরীহ।

বাঙালিদের উপর গণহত্যা চালায়। ২. বুদ্ধিজীবী হত্যা : একাত্তরের ডিসেম্বরে যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে বুদ্ধিজীবী, ডাক্তার, প্রকৌশলী বিভিন্ন। পেশাজীবীদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। ৩. নারীর সম্রমহানি এবং নির্যাতন : পাক দখলদার বাহিনী যুদ্ধ চলাকালীন ও যুদ্ধ শেষে অন্তত সাড়ে সাতশত বাঙালি নারীকে ভােগের জন্য বন্দী করে পাকিস্তানে নিয়ে যায় এবং পতিতালয়ে আটক রাখে। মুক্তিযুদ্ধে তারা | সাড়ে চার লাখের বেশি বাঙালি নারীকে নির্যাতন ও ধর্ষণ এবং বহুসংখ্যক নারীকে হত্যা করে। ৪. অগ্নিসংযােগ ও সম্পত্তি ধ্বংস : পাক দখলদার বাহিনী গ্রামাঞ্চলগুলােতে তথাকথিত দুষ্কৃতকারী দমনের। নামে নির্বিচারে হত্যা, অগ্নিসংযােগ ও সাধারণের সম্পত্তি ধ্বংস করে।

৫. সংখ্যালঘুদের নিধন : মুক্তিযুদ্ধে পাক দখলদার বাহিনী সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা, নির্যাতন, জাতিগত নিধন ও শুদ্ধি অভিযান চালায়। ৬. সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত ; পাক দখলদার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে নির্দোষ, বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ব্যাপক গণহত্যা চালায়। ৭. পূর্ব পাকিস্তান সৈন্যদের হত্যা : মুক্তিযুদ্ধে পাক দখলদার বাহিনী ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসার ও সৈন্যদের বিদ্রোহ দমনের অজুহাতে তাদেরকে শঠতামূলক হত্যা করে।

পরিশেষে বলা যায় যে, পাক দখলদার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধপরাধ, নারী নির্যাতন, মানবতাবিরােধী। অপরাধের মতাে উল্লিখিত কর্মকাণ্ডগুলাে চালিয়েছে। তারা আইন বহির্ভূতভাবে নিরপরাধ নারী-পুরুষকে বন্দী করে নির্যাতন। ও গুম করে ফেলে। তবে এতদসত্ত্বেও বাঙালিরা ভারতে প্রবাসী সরকার গঠন করে এবং মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যায়। পাক দখলদার বাহিনী ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালি জাতির উপর নির্বিচারে গণহত্যার যে সূচনা করেছিল ১৬ ডিসেম্বর তাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তার পরিসমাপ্তি ঘটে। ৩৩ প্রশ্ন : ৪৪। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর হত্যাকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও। অথবা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর হত্যাকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও। উত্তর : ভূমিকা : বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় ২৫ মার্চ, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার পটভূমিতে।

২৫ মার্চের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা শুরু করে। রাজাকার, শান্তিবাহিনী সংগঠিত হওয়ার পর এ গণহত্যার কার্যক্রম আরাে পরিকল্পিতভাবে চলতে থাকে থেকে পাকবাহিনী কর্তৃক হত্যাকাণ্ড শুরু হয় এবং তা চলে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত। | মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর হত্যাকাণ্ড : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের দমন করার জন্য পাকবাহিনী ২৫ মার্চ রাত ১১টায় অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে যা ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলে। এ অভিযানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশেপাশের পুরাে এলাকা তথা ঢাকা শহর আক্রান্ত হয়। ফলে এই অভিযানেই কেবল প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয় বলে জানা যায়। ঢাকা শহরের পথে পথে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে, বাজারে, শপিং মলে পড়ে থাকা ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মৃতদেহ। ঢাকা পরিণত হয় মৃতের শহরে।

এই হত্যাকাণ্ড চলে পুরাে নয় মাস ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রথম দিকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কেবল পাকবাহিনীই জড়িত ছিল। পরবর্তীতে এর সাথে যুক্ত হয়। পাকবাহিনীর এদেশীয় দোসর শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস প্রভৃতি দালাল বাহিনী। এ বাহিনীর। লােকেরা পাকবাহিনীর উন্মাদ, নির্বোধ ও অমানুষ সৈনিকদের পথ দেখিয়ে বিভিন্ন জনপদে নিয়ে গেছে। তারা গুলি করে। বেয়ােনেট চার্জ করে, ধর্ষণ করে মানুষ হত্যা করেছে। বিভিন্ন জপদে লাশের স্তৃপ জমা হয়ে গেছে। এ গণহত্যায় বৃদ্ধ, নারী, শিশু, যুবক, কিশাের, মজুর, মালিক, কৃষক, ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক সব বয়স ও পেশার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাদের নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন ও নির্মমতায় মাত্র ৯ মাসে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মধ্যে ৩০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। |

পরিশেষে বলা যায় যে, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে পাকিস্তানি দস্যু বাহিনী কর্তৃক ইতিহাসের জঘন্যতম। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। যেকোনাে অজুহাতে গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, যুবকদের ধরে এনে বধ্যভূমিতে গুলি করা, মেয়েদের ধরে এনে ক্যাম্পে নির্যাতন করা, পরিচিতি ব্যক্তিদের গুম করা, মুক্তিবাহিনীর সদস্য বলে বাঙালিদের হত্যা করা ছিল। পাকিস্তানিদের হােলি খেলার মতাে।

।মুক্তিযুদ্ধে শান্তি কমিটির ভূমিকা লিখ। অথবা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শান্তি কমিটির ভূমিকা সংক্ষেপে লিখ। উত্তর : ভমিকা : মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান প্রশাসনকে সহযােগিতা করার জন্য এপ্রিল ঢাকায় শান্তি কমিটি গঠিত হয়। তৎকালীন পাকিস্তান ডেমােক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান নুরুল আমীনের সভাপতিত্বে শান্তি কমিটি। গঠিত হয়। এর সদর দপ্তর ছিল ঢাকার মগবাজারস্থ ৫নং এলিফ্যান্ট লেনে। জেলা, মহকুমা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত শান্তি কমিটির শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদস্যদের দালাল বলা হতাে। এরা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত বিরােধী ছিল।মুক্তিযুদ্ধে শান্তি কমিটির ভমিকা, মুক্তিযুদ্ধে শান্তি কমিটির লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় । সংহতি সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা, দেশের বিচ্ছিন্নতা রােধ, অখণ্ডতা রক্ষা, যােগসূত্র স্থাপন ও পাকিস্তানি হুকুম বহাল রাখা।। কেউ কেউ বলেন এর মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালিদের পক্ষে যারা কাজ করে তাদের নিধন করা। ক্রমান্বয়ে সারা দেশে শান্তি ন হয়। স্বাধীনতাবিরােধী রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীরা এসব কমিটি গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্নভাবে। कति হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযােগিতা করে। এদিন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ।

আরো পড়ুন:

Masud

আমি মাসুদ রানা। Studytimebd.com একটি শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট। আমি এখানে সকল শিক্ষামূলক তথ্য প্রকাশ করে থাকি। এই ওয়েবসাইটে যে বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয় তার মাঝে প্রধান ক্যাটেগরি গুলো হলো লেখাপড়া, পরীক্ষার প্রস্তুতি, বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি।

View all posts by Masud →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *