স্বাধীনতা অর্জনের মূল ভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

ভারত ও রাশিয়ার সাহায্য-সহযােগিতায় মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা অতি অল্প সময়ের। মধ্যে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র লাভ করেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও রাইফেলসের সুযােগ্য নেতৃত্বে দখলদার বাহিনীর। উপর আঘাত হানতে থাকেন। কয়েক মাসের মধ্যেই মুক্তিবাহিনীর গেরিলা ও সম্মুখ আক্রমণে পাকবাহিনীর মনোেবল সম্পর্ক ভেঙে পড়ে। মাত্র ১৩ দিনের আক্রমণের তীব্রতার মুখে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেঙে পড়ে। ফলে রক্ত ঝরানাে আর পিচ্ছিল পথে না যেয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অগ্রাধিনায়ক জেনারেল নিয়াজি ৯৩ হাজার পাক সেনাবাহিনী। ও অফিসারসহ সােহরাওয়ার্দী ময়দানে মিত্রবাহিনীর কমান্ডের নিকট বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ করেন। ফলে বিশ্বের মানচিত্রে।

প্রস্ফুটিত হয় একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রক্তস্নাত গােলাপ, নাম তার বাংলাদেশ’। . উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের হত্যাকাণ্ডের পর ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘােষণার। মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্তিকরণ ও স্বতন্ত্র তিনটি নিয়মিত বাহিনী। গঠনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সংগঠন সুসংগঠিত রূপ লাভ করে। সামরিক, নৌ ও বিমান বাহিনীর বাঙালি অফিসার ও সৈনিক ছাড়াও নিয়মিত বাহিনীর সহযােগী শক্তি হিসেবে ছাত্র-জনতার গড়ে তােলা গণবাহিনী নিয়মিত বাহিনীর।

স্বাধীনতা অর্জনের মূল ভাব সম্পর্কে বিস্তারিত

পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছে। ৩৩ প্রশ্ন : ৬৩। বাঙালির জাতীয় জীবনে ১৬ ডিসেম্বরের তাৎপর্য উল্লেখ কর।। | ঠাকুরগাঁও স. ক. ঠাকুরগাঁও, নি. প.-‘১৫] অথবা, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সম্পর্কে কি জানাে? উত্তর : ভূমিকা : ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি ও বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এক অনন্য দিন। সুদীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ঐ দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। অভ্যুদয় হয় স্বাধীনতার লাল সূর্য। বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয় স্বাধীনসার্বভৌম বাংলাদেশ। বাঙালির জাতীয় জীবনে ১৬ ডিসেম্বরের তাৎপর্য : ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালির জাতীয় জীবনে। এক তাৎপর্যময় দিন। এ দিন ‘বিজয় দিবস।

বাঙালি জাতি প্রায় অস্ত্রশস্ত্রহীন, নিঃস্ব অবস্থায়ও দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়, অসীম সাহসিকতা ও সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে সর্বোপরি, বিশ্ব জনমত ও বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের সহায়তায় মাত্র ৯ মাসের মধ্যে একটি। পরাক্রমশালী আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাগরিক হিসেবে। আত্মপ্রকাশ করে। এভাবে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটা অসম্ভবকে সম্ভব করা হয়, একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করা হয়। এ স্বপ্ন স্বাধীনতার স্বপ্ন। এ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বাঙালি জাতি যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তা অনন্য। অযুত । প্রাণের তাজা রক্তের বিনিময়ে এ স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। প্রাণ দিতে হয়েছে দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পী ও অন্যান্য অনেক গুণী ব্যক্তিকে। সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল এ দেশের মা-বােনকে। তবু জাতি।

হাসিমুখে হৃদয়ের সমস্ত দৃঢ়তা নিয়ে হাজারাে বিপদ

পরাধীনতাকে মেনে নেয় নি। মেনে নেয় নি অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে। আপস করে নি অন্যায়-অবিচারের সাথে ।। হাসিমুখে হৃদয়ের সমস্ত দৃঢ়তা নিয়ে হাজারাে বিপদ ও অত্যাচারের মােকাবিলা করেছে, প্রয়ােজনে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ত্যাগ | স্বীকার করেছে। সীমাহীন এ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘােষণা সার্থকতা লাভ করে ১৬ ডিসেম্বর। ১৬ ডিসেম্বর তাই বিজয়ের দিন, বাঙালি জাতির গর্বের দিন।। | উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ রমণীর ইজ্জতের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১। অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বিজয়মালা। তাই ১৬ ডিসেম্বর বাঙালির জাতীয় জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন।।

৩৩ প্রশ্ন : ৯.১। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর একটি প্রবন্ধ লিখ। সি. রাজেন্দ্র ক, ফরিদপুর, নি, প,-‘১৪] । অথবা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমি আলােচনা কর। (মাগুরা আদর্শ ক, মাগুরা, নি. প.-‘১৫/ উত্তর : ভূমিকা : বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বের মানচিত্রে এক রক্তক্ষয়ী এবং অবিস্মরণীয় ঘটনা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে। এ স্বাধীনতা লাভের ভিত্তি ছিল ধর্মভিত্তিক। জাতীয়তাবাদ। প্রায় দেড় হাজার মাইলের ব্যবধানে পরস্পর বিচ্ছিন্ন দুটি ভূখণ্ড নিয়ে পাকিস্তান গঠিত হলেও উভয় অংশের।

জনগণ আশা করেছিল সর্বস্তরে ভ্রাতৃসুলভ সৌহার্দ নিয়ে বসবাস করার। কিন্তু পাকিস্তানের দীর্ঘ ২৪ বছরের ইতিহাস পূর্ববাংলার প্রতি অবিচার-অত্যাচার, জাতিগত নিপীড়ন, সামাজিক নির্যাতন ও বঞ্চনায় ভরপুর। ফলে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্টি হয় সর্বক্ষেত্রে পর্বতপ্রমাণ বৈষম্য। এ বৈষম্যের কারণেই পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিরােধ সৃষ্টি হয়, যার। প্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক অধিকার এবং বাঙালি জাতীয়তাবােধের উন্মেষ ঘটে। কালক্রমে তা ব্যাপক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধিকার তথা স্বাধীনতা সগ্রামে রূপ নেয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও পটভূমি : নিম্নে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও পটভূমি সংক্ষেপে আলােচনা করা হলাে : ১. নির্বাচনের রায় বানচাল করার ষড়যন্ত্র : ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে প্রথমবারের মতাে সর্বজনীন ভােটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সফলতার ভিত্তি

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সফলতার ভিত্তি ছিল ছয় দফা কর্মসূচি। ছয় দফার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ ন্যায়সংগত কারণে ঘােষণা করে যে, পাকিস্তানের। ভবিষ্যৎ এ ছয় দফার ভিত্তিতে প্রণীত হবে। আওয়ামী লীগের এ ঘােষণায় পশ্চিম পাকিস্তানের কায়েমি স্বার্থবাদী নেতৃত্ব আতঙ্কিত হয়ে। উঠে। তারা নির্বাচনের ফলাফল বানচাল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। * ২. জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘােষণা : জেনারেল ইয়াহিয়া খান ঘােষণা করেন যে, ১৯৭১। সালের ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। পিপলস পার্টির নেতা ভুট্টো ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত ঢাকায় বৈঠকে।

যােগ দিতে অস্বীকার করে পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি অধিবেশন বর্জনের আহ্বান জানান। কিন্ত মুসলিম লীগ ব্যতীত অন্য কোনাে পশ্চিম পাকিস্তানি রাজনৈতিক দল ভুট্টোর এ আহ্বানে সাড়া দেয় নি। অথচ জেনারেল। ইয়াহিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার সাথে ৩ মার্চের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই ১ মার্চে এক আকস্মিক ঘােষণা বলে। অনির্দিষ্টকালের জন্য অধিবেশন স্থগিত রাখেন। এতে পূর্ববাংলার জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়। ৩. অসহযােগ আন্দোলনের ডাক : জেনারেল ইয়াহিয়ার জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত ঘােষণার ফলে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাধীনতার দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়ে। ২ মার্চ শেখ মুজিব এবং অন্যান্য। জাতীয়তাবাদী নেতার উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু কতৃক স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।। পরের দিন ৩ মার্চ পল্টন ময়দানের জনসভায় শেখ মুজিব অসহযােগ আন্দোলনের ডাক দেন। বাঙালিরা এতে অতপর্ব ।

সাড়া দেয়। পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান সরকারের বেসামরিক প্রশাসন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে।। ৪. সেনাবাহিনীর গুলি; অবস্থা বেগতিক দেখে জেনারেল ইয়াহিয়া ৩ মার্চের পরিবর্তে ১০ মার্চ এক বৈঠকে মিলিত হওয়ার জন্য শেখ মুজিব এবং ভুট্টোসহ ১২ জন নেতাকে আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে সেনাবাহিনী বাঙালির উপর গুলি চালালে এতে অনেক লােক নিহত হয়। সেনাবাহিনীর গুলিতে অনেক লােক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে শেখ মুজিব আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। শেষ পর্যন্ত ইয়াহিয়া ২৫ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। এদিকে পুনরায় পূর্ববাংলার বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনী স্বাধীনতাকামী মানুষের উপর গুলি চালাতে থাকে। এর প্রতিবাদে সারা বাংলা জেগে উঠে। ৫. শেখ মুজিবের ঘােষণা : ৭ মার্চ ঢাকায় ঐ সময়ের রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিব দশ লাখ লােকের সমাবেশে ঘােষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া

এ জনসভায় তিনি সামরিক আইন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, সামরিক বাহিনী কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও জাতীয় সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠানের পূর্বে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে ২৫ মার্চের সংসদ অধিবেশনে যােগদান না করার কথা ঘােষণা করেন। এর ফলে সৃষ্ট শাসনতান্ত্রিক সংকট মােকাবিলা করার জন্য জেনারেল ইয়াহিয়া ১৫ মার্চ ঢাকায় আসেন এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে আলােচনা শুরু করেন। অসহযােগ আন্দোলনের ফলে পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক শাসন ক্ষমতা শেখ মুজিবের হাতে চলে আসে। গভর্নর হাউজের বদলে শেখ মুজিবের ধানমণ্ডিস্থ ৩২নং বাড়ি প্রশাসনিক নির্দেশের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *