সেক্টরের সীমানা ছিল ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা

সেক্টরের সীমানা ছিল ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা। এই সেক্টরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার ছিলেন। মেজর এম. এম. আবু তাহের। কমান্ডার গুরুতর আহত হলে এই সেক্টর পরিচালনার দায়িত্ব পান স্কোয়াড্রন লীডার। হামিদুল্লাহ। এই সেক্টরে নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনীর প্রায় পঁচিশ হাজার সদস্য যুদ্ধ করেছে। মানকারচর, মহেন্দ্রগঞ্জ, পুরাখাসিয়া ঢালু, বংরা, শিব্বাড়ি, বাগমারা ও মহেশখােলা নামক আটটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত ছিল এই সেক্টরটি। ১১ নং সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের মহেন্দ্রগঞ্জে।

সেক্টরের সীমানা ছিল ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা

পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য তৎকালীন বাংলার অস্থায়ী সরকার সমগ্র দেশকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করে আর এ কারণেই স্বাধীনতা যুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং স্বাধীনতা অর্জনে আমরা সক্ষম। হয়েছি। এছাড়াও জেড (Z) ফোর্স, এস (S) ফোর্স এবং কে (K) ফোর্স নামে আরাে তিনটি বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। । | ৩৩ প্রশ্ন : ৯.৬। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের পদবিসহ তাদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলােচনা কর। অথবা, বীরশ্রেষ্ঠে কাদের বলা হয়? বীরশ্রেষ্ঠদের সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। উত্তর : ভূমিকা : পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠীর অত্যাচার ও শােষণের বিরুদ্ধে বাংলার জনগণ ১৯৭১ সালে গড়ে।

তােলে দুর্বার সংগ্রাম। দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও বিপুল আত্মােৎসর্গের মধ্য দিয়ে মুক্তিলাভ করে বাংলার মানুষ, মুক্ত হয় বাংলার মাটি এবং পৃথিবীর বুকে জন্মলাভ করে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগী লাখাে শহীদের মধ্যে ৭ জনকে তাদের বিশেষ অবদানের জন্য প্রদান করা হয় সকল জনগণের ভালােবাসা মিশ্রিত এদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি। ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকারি গেজেট নােটিফিকেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সাতজন বীর সন্তানকে মরণােত্তর বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ :

সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলােচনা করা হলাে

১. বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নুর মােহাম্মদ শেখ : ল্যান্স নায়েক নূর মােহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহেষখােলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে ই. পি. আর.-এ ল্যান্স নায়েক পদে। যােগদান করেন। বাংলার এই বীরসন্তান স্বাধীনতা যুদ্ধে চাকরি থেকে পালিয়ে ৮ নং সেক্টরে যােগ দেন। ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে সেক্টরে স্থায়ী টহলে নিয়ােজিত থাকা অবস্থায় পাক হানাদার বাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে পড়েন। সঙ্গীদের বাঁচাতে গিয়ে এবং তাদের পালানাের সুবিধার্থে তিনি একাকী পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শহীদ হন। এই বীর। সন্তানকে যশাের জেলার শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে সমাহিত করা হয়। ২. বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ : ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ ৮ মে ১৯৪৩ সালে। ফরিদপুর জেলার বােয়ালমারী (বর্তমান মধুখালী) থানার সালামতপুর (বর্তমান রউফ নগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ৮ মে ১৯৬৩ সালে ই, পি, আর-এ ল্যান্স নায়েক পদে যােগদান করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তিনি চাকরি। ছেড়ে চলে আসেন এবং ১ নং সেক্টরের সদস্য হয়ে যুদ্ধ করতে থাকেন। ২০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে রাঙামাটি ও মাহালছড়ির। সংযােগপথ বুড়িঘাটে এলাকায় চিংড়ি খালের দুই পাশে নির্মিত প্রতিরক্ষা ব্যুহ অক্ষুন্ন রাখতে গিয়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। প্রচণ্ড যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং পলায়নরত হানাদার বাহিনীর ছােড়া মর্টারের গােলার আঘাতে এই বীর সন্তান শাহাদাত বরণ। করেন। তাকে রাঙামাটির শহরের রিজার্ভ বাজারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সমাহিত করা হয়।। ৩. বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর : বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ৭ মার্চ ১৯৪৯ সালে বরিশাল জেলার ।

বাবুগঞ্জ থানার রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন

তিনি ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন হিসেবে যােগদান। করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি এদেশের পক্ষে ৭ নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালের। ১৪ ডিসেম্বর তিনি তার বাহিনী নিয়ে পাক হানাদারদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হন। একসময় পাকবাহিনী পিছু হটতে থাকলে। মুক্তিবাহিনী তাদের তাড়া করে। হঠাৎ পাকিস্তানিদের একটি বুলেট এসে কেড়ে নেয় বাংলার বীর সন্তান মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের। জীবন। তিনি শহীদ হন। বীরশ্রেষ্ঠ এই সন্তানকে চাঁপাই নবাবগঞ্জের সােনা সমজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়।

৪. বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন : বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ১৯৫৩ সালের জুন মাসে নােয়াখালী জেলার জন্মগ্রহণ। করেন। তিনি ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যােগ দেন স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। তিনি প্রশিক্ষণ অবস্থা । থেকে পালিয়ে এসে ১০ নং সেক্টর অর্থাৎ বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার হিসেবে যােগ দেন। ১০। ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে খুলনার রুপসা উপজেলার বাগমারা গ্রাম থেকে খুলনা শহরের দিকে আসার পথে রূপসা নদীতে তার জাহাজ পাকিস্তান বাহিনীর বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয় এবং তিনি আগুনে পুড়ে শহীদ হন।

প্রথমে তার দেহ। বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হলেও পরে তা তুলে রূপসা নদীর তীরে দাফন করা হয়।। । ৫. বীরশ্রেষ্ঠ মােহাম্মদ মােস্তফা কামাল : বীরশ্রেষ্ঠ মােস্তফা কামাল ১৯৪৯ সালে ভােলা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যােগদান করেন সিপাহি হিসেবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টরের সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর। সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মােস্তফা কামালকে সমাহিত করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *