রাস্তাঘাট মেরামত বিভিন্ন কাজে বাঙ্গালীদের ভূমিকা

অগ্নিসংযােগ প্রভৃতি কাজ করাতাে। মূলত স্বাধীনতা বিরােধী নেতা ও কর্মীরা শান্তি কমিটি গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে হানাদার। বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহযােগিতা করে। তারা ঠাণ্ডা মাথায় সুপরিকল্পিতভাবে নৃশংসতম গণহত্যায় নেতৃত্ব দেয়। তারা। স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের হত্যার তালিকা তৈরি করে ও হত্যায় সহায়তা করে। | উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, পাকিস্তানের অখণ্ডতার নামে স্বাধীন বাংলাদেশকে অস্বীকার করাই শান্তি কমিটির মূল কাজ ছিল। পাকবাহিনীর দোসররূপে শান্তি কমিটির দালালরা সরাসরি খুন, ধর্ষণ, নারী অপহরণ ও নির্যাতন, লুটতরাজ, অগ্নিসংযােগ ও ধ্বংসযজ্ঞে অংশগ্রহণ ও হানাদার বাহিনীকে সাহায্য করতাে। তারা মূলত স্বাধীনতার বিরােধী। ‘ছিল। ১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের পর শান্তি কমিটি বিলুপ্ত হয়।। ১৪ প্রশ্ন : ৪৬। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আল-বদর বাহিনীর ভূমিকা লিখ। অথবা, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আল-বদর বাহিনীর ভূমিকা সংক্ষেপে লিখ।

রাস্তাঘাট মেরামত বিভিন্ন কাজে বাঙ্গালীদের ভূমিকা

ভূমিকা : মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদারদের সহায়ক বাহিনীগুলাের মধ্যে আল-বদর ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির। ‘৭১-এর ২২ এপ্রিল অনানুষ্ঠানিকভাবে জামালপুরে আল-বদর বাহিনী গঠিত হয়। যখন পাকবাহিনী জামালপুর দখল। করে তখন মােমেনশাহী (বর্তমান ময়মনসিংহ) ইসলামী জমিয়ত-ই-তুলাবা বা ইসলামি ছাত্র সংঘের সভাপতি আশরাফ | হােসেনের নেতৃত্বে এ বাহিনী আত্মপ্রকাশ করে। পাকবাহিনীর মেজর রিয়াদ হুসাইন আল-বদর বাহিনী গঠন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছাত্র সংঘের তরুণদের প্রশিক্ষণ প্রদানকালে ২১ মে আল-বদর নামে তাদের সংগঠিত করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আল-বদর বাহিনীর ভূমিকা : আল-বদরের সদস্যরা ছিল সুসংগঠিত, মেধাসম্পন্ন ও সশস্ত্র রাজনৈতিক ক্যাডার।

একেবারে তৃণমূল স্তরে এদের অপারেশন পরিচালিত হতাে। তদানীন্তন তুলাবা নাজিম-ই আলা মতিউর রহমান নিজামী আল-বদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। আল-বদর বাহিনীর সদস্যরা পাক হানাদার। বাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্র বা রসদ-সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং এরা তাদেরই কুখ্যাত সহযােগী হয়ে কাজ করেছে। মার্কিন লেখক রবার্ট পেইন তার ‘Massacri’ গ্রন্থে লেখেন, “ধর্মান্ধ ছাত্রদের নিয়ে গােপনে তৈরি হয় আল-বদর। বাহিনী। এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রদের গােপনে হত্যার চক্রান্ত করে। শুধু চক্রান্তই নয়, তারা এসব হত্যাকাণ্ড ঘটায় লােকচক্ষুর আড়ালে। আল-বদরের নিজস্ব বয়ানে (পত্রিকায় প্রকাশিত) বলা হয়েছে, “আল-বদর একটি নাম! একটি বিস্ময়! আল-বদর একটি প্রতিজ্ঞা! যেখানে তথাকথিত মুক্তিবাহিনী, আল-বদর সেখানেই। যেখানে দুষ্কৃতকারী, আল-বদর সেখানেই। ভারতীয় চর বা। দুষ্কৃতকারীদের কাছে আল-বদর সাক্ষাৎ আজরাইল। তবে এটি ছিল জামায়াত ছাত্রদের একটি প্যারামিলিটারি ইউনিট।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল দায়িত্বে ছিল আল-বদর বাহিনী। তারা পাকবাহিনীর সহায়তায় ঘণ্য ও জঘন্য। এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে তারা হত্যা করে। বাঙালিকে মেধাশূন্য করায়। পাকিস্তানি পরিকল্পনাকেই আল-বদর, আল-শামসরা নিষ্ঠুরভাবে বাস্তবায়ন করে। এ হত্যাকাণ্ডের হােতাদের মধ্যে। আশরাফুজ্জামান চৌধুরী, ময়েনউদ্দীন, কাদের মােল্লা প্রমুখের নাম শােনা যায়।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ‘৭১-এর শেষভাগে আল-বদর এক মূর্তিমান বিভীষিকা হয়ে বাংলাদেশের মানুষের উপর চেপে বসে এবং ইতিহাসের ঘৃণিত আসন দখল করে। তারা সন্ত্রাস, বেছে বেছে হত্যা ও গণহত্যার মাধ্যমে জনগণের মাঝে। আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। তারা চৌকস ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে পাকিস্তানিদের কাছে অনেক বেশি নির্ভরযােগ্য ছিল। ” 32 প্রশ্ন : ৪৭। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আল-শামস বাহিনীর অপতৎপরতা লিখ। অথবা, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আল-শামস বাহিনীর ভূমিকা সংক্ষেপে বর্ণনা কর। উত্তর : ভূমিকা : আল-শামস আরবি শব্দ, যার অর্থ সূর্য। আল-শামস সূর্যের মতাে তেজস্বী ও সাহসী হবে এবং কোনাে কিছু পরােয়া না করে শত্রুর সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে। এমন কিছু ভেবে এর প্রতিষ্ঠাতারা পাকিস্তান টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এর এরূপ নামকরণ করে থাকেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ও সাহায্যার্থে আল-শামস গঠিত হয়। পাক।

হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণের পরেও এ আধা সামরিক বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়তে চেয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আল-শামস বাহিনীর অপতৎপরতা : আল-শামস বাহিনী ছিল আল-বদরের। মতাে একটি সশস্ত্র জিহাদি ক্যাডার বা প্যারামিলিটারি । জেনারেল নিয়াজি তার The Betrayal of East Pakistan’ গ্রন্থে বলেন, “আল-শামসকে সেতু, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অন্যান্য এলাকা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এলাকা রক্ষার নামে কার্যত এই। প্যারামিলিটারি বাহিনীকে বিভিন্ন স্থানে অপারেশনে অংশ নেওয়া, তথ্য সংগ্রহ ও বেছে বেছে হত্যা, বিশেষ করে বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও স্বাধীনতাকামী পেশাজীবী এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যার মতাে বর্বরােচিত এবং যুদ্ধাপরাধের কাজগুলাে করতে দেখা গেছে। এছাড়া তারা নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতন এবং তাদেরকে হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার মতাে কাজও করেছে। আল-শামস বাহিনীতে অবাঙালি মাদ্রাসা ছাত্র (বিহারী) মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলাম পার্টির সদস্যরা ছিল।

জামায়াতের সৃষ্ট আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী বুদ্ধিজীবী

পাকিস্তানের ডেইলি টাইমসের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযানে সহায়তা ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তারা আল-বদর ও আল-শামস নামে আধা সামরিক বাহিনী গঠন করেছিল। সম্পাদকীয়তে আরাে বলা হয়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চেয়েও তাদের এদেশীয় দোসর জামায়াতে ইসলামী বেশি হিংস্র ছিল। সে সময় জামায়াতের সৃষ্ট আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী বুদ্ধিজীবী ও । মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের লােকদের হত্যায় অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে। | উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, আল-শামস ছিল ধর্মভিত্তিক দলগুলাের ছাত্র সংগঠনের সদস্য ও অবাঙালি। (বিহারী)-দের নিয়ে গঠিত ডেথ স্কোয়াড। আল-শামস এর সদস্যরা স্বাধীনতাকামী ও রাজনৈতিকদের ধরে নিয়ে টর্চার। সেলে আটক রেখে নির্যাতন করতাে। তারা নিজেরাই বহু স্থানে অপারেশন চালাত। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ভারতে আশ্রয়।

গ্রহণের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে বাঙালিরা ভারতে যাওয়ার সময় এই বাহিনী হাজার হাজার মানুষকে হত্যায় সহযােগিতা বা নিজেরা হত্যা করেছিল। ৩২ প্রশ্ন : ৪৮। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার বাহিনীর অপতৎপরতা লিখ। অথবা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীর গঠন ও ভূমিকা আলােচনা কর। স, দেবেন্দ্র ক. মানিকগঞ্জ, নি. প.-‘১৫) উত্তর : ভূমিকা : রাজাকার ফারসি শব্দ। এর অর্থ স্বেচ্ছাসেবী বা স্বেচ্ছাসেবক। ভারতীয় উপমহাদেশে রাজাকার। শব্দের প্রথম প্রয়ােগ হয় ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময়। এ শব্দের প্রয়ােগ করেন হায়দ্রাবাদের নিজাম বাহাদুর। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হতে রাজাকার শব্দটি এদেশে বেশি পরিচিতি লাভ করে।

সামরিক বাহিনীকে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে

যুদ্ধরত পাকিস্তানি। সামরিক বাহিনীকে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে রাজাকার দল গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের মে মাসে মুক্তিযুদ্ধের সময় খুলনায়। খান জাহান আলী রােডের একটি আনসার ক্যাম্পে ৯৬ জন পাকিস্তানপন্থি কর্মী নিয়ে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়।। ‘ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার বাহিনীর অপতৎপরতা : পাকিস্তান সামরিক প্রশাসন ও বাহিনীকে সহায়তা, সেনাবাহিনীর চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা, ব্রিজ ইত্যাদি স্থাপনা রক্ষা, মুক্তিযােদ্ধাদের গতিধারা, অবস্থান, তথ্য সংগ্রহ। প্রভৃতি উদ্দেশ্যে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়। প্রথম পর্যায়ে রাজাকার বাহিনী ছিল এলাকার শান্তি কমিটির নেততাধীন। ১৯৭১ সালের ১ জুন জেনারেল টিক্কা খান পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স ১৯৭১ জারি করে আনসার বাহিনীকে। রাজাকার বাহিনীতে রূপান্তরিত করেন। তবে এর নেতৃত্ব ছিল পাকিস্তানপন্থি স্থানীয় নেতাদের হাতে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা। মন্ত্রণালয় ৭ সেপ্টেম্বর জারিকৃত এক অধ্যাদেশ বলে রাজাকার বাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীর সদস্যরূপে স্বীকতি দেয়। আতিনি অবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাজাকারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতাে। প্রশিক্ষণ শেষে রাজাকারদের হাতে থ্রি-নটথ্রি বা ৩০৩ রাইফেল তুলে দেওয়া হতাে। পাকিস্তান তলে দেওয়া হতাে। পাকিস্তানপন্থি স্থানীয় নেতা বিশেষত শান্তি কমিটির নেতাদের হাতে ছিল।

ইসলামি ছাত্র সংঘের প্রধান মােঃ ইউসুফ

রাজাকার বাহিনীর নেতৃত্ব। ইসলামি ছাত্র সংঘের । s, ইসলামি ছাত্র সংঘের প্রধান মােঃ ইউসুফ রাজাকার বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন। এর। উপরের স্তরের নেতৃত্বে ছিল মুসলিম লীগ ও জামায়াত ইসলামী নেতা ও কর্মীবৃন্দ।। orনা মহকমা এমনকি গ্রামেও রাজাকাররা ক্যাম্প স্থাপন করে। রাজাকার বাহিনী দেশের। ‘ ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা, থানা, মহকুমা এমনকি ও অভ্যন্তরে গ্রামগ, শহর-বন্দর, রাস্তাঘাট সর্বত্র সর্বসাধারণের উপর যেভাবে অত্যাচার, নির্যাতন, চাঁদাবাজি লট তে “রাজাকার’ শব্দটি চরমভাবে ঘৃণিত ও ধিকৃত হয়েছে। নির্যাতন, ধর্ষণ এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে তাতে ‘রাজাকার’ শব্দটি চরমভাবে ঘণিত ও ভিন্ন র অনুসন্ধান দিত। মুক্তিযােদ্ধা আছে এরূপ তথ্য দিয়ে তারা। মুক্তিযুদ্ধে পাক ক্যাম্পে রাজাকাররা মুক্তিযােদ্ধাদের অনুসন্ধান দিত। মুক্তিযােদ্ধা আছে এরূপ তথা বাড়িঘর লুট ও অগ্নিসংযােগ করতাে। রাজাকাররা গ্রামে ও হিন্দু পাড়ায় ঢুকে পাকবাহিনীকে গ্রামে নিয়ে যেত। এরপর বাড়িঘর লুট ও আগ্নসংযােগ করতাে।

রাজাকাররা গ্রামে এ যুবতী নারীদের ধর্ষণ ও তাদের ধরে আর্মি ক্যাম্পে সরবরাহ করতাে। ধন্যা মক্তিবাহিনীর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, গেরিলাদের অবস্থান, গতিবিধি, উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, রাজাকাররা মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, গেরিলাদের টি ও পাক সেনাদের কাছে পৌছাত। রাজাকাররা ছিল সামরিক চলাচল প্রভৃতি বিষয়ক সংবাদ সরবরাহ করে শান্তি কমিটি ও পাক সেনাদের কাছে পৌছাত। রাজাকার । মুক্তিযুদ্ধে তারা চরমভাবে ঘৃণিত হয় স্বাধীনতাকামী জান্তা সরকারের কাউন্টার ইন্সারজেন্সি (Counter Insurgency)। মুক্তিযুদ্ধে তারা চরমভাবে ঘ ল হাঁস-মুরগি নিতেও পিছপা হয় নি। তারা পাকবাহিনীর। এদেশবাসীর কাছে। তারা গ্রামে ঢুকে আর্মির নামে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিতেও পিছপা হয় । অন ইট-বালি বহন, জঙ্গল পরিষ্কার, রাস্তাঘাট মেরামত বিভিন্ন কাজে জোর করে গ্রামের লােকদের বেকার খাটাত। যেমন- ইট-বালি বহন, জঙ্গল পরিষ্কার : প্রভৃতি। রাজাকাররা শরণার্থীদের ভারত যাবার পথে সর্বস্ব লুণ্ঠন করার মতাে অপতৎপরতাও চালিয়েছে।

আরো পড়ুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *