বাংলাদেশের স্বাধীন বাংলা বেতার অবদান বর্ণনা করা হলো

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার ও বিদেশি পর। মাধ্যমের অবদান বর্ণনা কর। অথবা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা আলােচনা কর। (স. বেগম রােকেয়া ক. রংপৱ নি প…। উত্তর : ভূমিকা : বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রচার মাধ্যমের অবদান অনস্বীকার্য। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় স্বাক্ট বাংলা বেতার ও বিদেশি প্রচার মাধ্যম মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকাময় চিত্র দেশবাসী এবং সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সময় হয়েছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার তার তেজস্বিনী ভাষা, সুদৃপ্ত কণ্ঠে অনুষ্ঠান প্রচার করে বাংলার আপামর জনসাধারণ এ মুক্তিযােদ্ধাদের সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তেমনিভাবে বিদেশি প্রচারমাধ্যমও মুক্তিযােদ্ধা ও বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ।

করতে সক্ষম হয়েছিল। আর এসব প্রচার মাধ্যমের নিরলস প্রচেষ্টায় অর্জিত হয়েছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।। ‘ স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবদান : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবদান নিম্নে আলােচনা করা হলাে : ১. স্বাধীনতার ঘােষণা প্রচার : মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই স্বাধীনতার ঘােষণা প্রচার করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ। বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ২৫ মার্চ রাতেই চট্টগ্রাম বেতারের বেশ কিছু কর্মী বেতার প্রচার নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিল এবং আপদকালীন সময়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তারই ফলশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নানের কণ্ঠে ২৬ মার্চে প্রথম বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘােষণা প্রচারিত হয়। এরপর মেজর জিয়া আবার বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘােষণা পাঠ করে শােনান। এভাবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্বাধীনতার ঘােষণা প্রচারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর। কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২. প্রবাসী সরকারের সাথে যােগাযােগ স্থাপন : ১৯৭১ সালে এপ্রিল মাসে প্রবাসী সরকার গঠিত হলে স্বাধীন বাংলা বেতার প্রবাসী সরকারের সাথে যােগাযােগ রেখে চলত | প্রবাসী সরকার স্বাধীন বাংলা বেতারের মাধ্যমে তাদের গুরুত্বপূর্ণ।

সিদ্ধান্ত নির্দেশনা পাঠাত। এসব দিক-নির্দেশনা মুক্তিযােদ্ধাদের জন্য অন্ধকার পথের আলােকবর্তিকা হিসেবে কাজ করতাে। এভাবে। প্রবাসী সরকার ও মুক্তিকামী জনগণের সাথে যােগাযােগ স্থাপন করে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছিল স্বাধীন বাংলা বেতার।। | ৩. দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার আহ্বান : ২৫ মার্চের নির্মম ধ্বংসলীলার পর ২৬ মার্চ। অপরাহে বেলা দুইটার সময় তৎকালীন চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসে এক বিদ্রোহী কণ্ঠ। প্রায় পাঁচ মিনিট স্থায়ী এ কণ্ঠে ছিল বাংলার জনগণের প্রতি দখলদার বাহিনীকে সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়ানাের উদাত্ত আহ্বান ।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই আহ্বানে বাংলার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলেই মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। ৪. বিশ্ব জনমত গঠন : স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নিয়মিত রণাঙ্গনের খবর, গণহত্যার খবর, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা, ধ্বংসযজ্ঞ প্রভৃতি প্রচার করতাে। যার ফলে বিশ্ববাসী মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারত। এতে বিশ্ব বিবেক জাগ্রত হয় এবং বিশ্ববাসী বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষে অবস্থান নেয়। পাশাপাশি পাকিস্তানি বাহিনীর দখলদারিত্ব বিষয়টি তাদের নজরে আসে এবং বিশ্ববাসী দখলদার বাহিনীর বিপক্ষে জনমত গড়ে তােলে।

মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর মনােবল, সাহস, ধৈর্য বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের। চরমপত্র পাঠ করা হতাে। এছাড়াও বিপ্লবী গান, কবিতা প্রচার করে মুক্তিযােদ্ধাদের মনােবল বাড়ানাের চেষ্টা করা হতাে। চরমপত্রের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী এম. মনসুর আলী, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচার করা হতাে। অবরুদ্ধ বাংলার মানুষ স্বাধীন বাংলা বেতারের চরমপত্র ও ভাষণ | শুনতেন আর আশার সঞ্চার করতেন, যা আমাদের বিজয়কে আরাে ত্বরান্বিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

স্বাধীনতা যুদ্ধে বিদেশি প্রচার মাধ্যমের অবদান : ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশীয় প্রচার মাধ্যমের পাশাপাশি বিদেশি প্রচার মাধ্যমও বিশ্ব জনমত গঠনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছিল। নিম্নে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে। বিদেশি প্রচার মাধ্যমের অবদান আলােচনা করা হলাে : ১. স্বাধীনতার ঘােষণা প্রচার : দেশীয় প্রচার মাধ্যমের পাশাপাশি বিদেশি গণমাধ্যম স্বাধীনতার ঘােষণা। প্রচারের ব্যাপারে উল্লেখযােগ্য অবদান রেখেছে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতা ঘােষণা করেন তা বিবিসি বাংলা। প্রভাত অধিবেশনে প্রচার করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ প্রকাশিত ‘দি টাইমস’ এবং “দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় বঙ্গবন্ধু। • স্বাধীনতার ঘােষণা প্রকাশিত হয়।

এর ফলে সমগ্র বিশ্ববাসী বাংলাদেশের ঘােষণা সম্পর্কে অবহিত হয়, যা বাংলাদেশে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। ২. গণহত্যার খবর প্রচার : দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিদেশি গণমাধ্যমগুলাে মুক্তিযুদ্ধের গণহত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। যদিও মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পাকবাহিনী বিদেশি সাংবাদিকদের আটক করে, ফলে। খবরাখবর বিশ্ব জানতে না পারলেও সবকিছু এড়িয়ে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিংক ২৭ মার্চ সারা ঢাকা শহর ঘুরে রােল ছবি তােলেন এবং তা জার্মান দূতাবাসের মাধ্যমে লন্ডনে পাঠান।

এরপর লন্ডনের টেলিগ্রাফে তািন। গণহত্যার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন, যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও মে মাসে পাকিস্তানি সাংবাদিক অ ম্যাসকারেনহাস সারাদেশে কিভাবে গণহত্যা চালানাে হচ্ছে তা তুলে ধরেন। ম্যাসকারেনহাস এর প্রতিবেদন প্রকা পর সারা বিশ্ব গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। এসব কতিত্বের একমাত্র দাবিদার বিদেশি গণমাধ্যমগুলাে। 1 তেমন র ২০ সাংবাদিক অ্যান্থনি প্রকাশের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *