ইয়াহিয়া আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ-আলােচনার মাধ্যম

সংকট নিরসনের নামে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। একদিকে পূর্ব পাকিস্তানে সেনা শক্তি বাড়ানাে হতে থাকে ও অস্ত্রশস্ত্র ভর্তি। জাহাজ আসতে থাকে অন্যদিকে আলােচনা চলতে থাকে। নয়দিন ধরে আলােচনা চলার পর সংকট নিরসনের নীতিমালা প্রণীত হয়। কিন্তু আলােচনায় ফলাফল সম্পর্কে কোনাে ঘােষণা না দিয়েই জেনারেল ইয়াহিয়া ২৫ মার্চ রাতে। সেনাবাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে গােপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। * ৭. ২৫ মার্চের কাল রাত্রি : ২৫ মার্চ পর্যন্ত আলােচনার যে প্রয়াস তা আসলে সারা বাংলায় গণহত্যা চালানাের। কৌশল ও প্রস্তুতিপর্ব। বাংলার মানুষ ও নেতৃবৃন্দকে ধোকা দিয়ে এ কাজ শেষ হয়। নেমে আসে ২৫ মার্চ কাল রাত্রি, যে রাতে।

ইয়াহিয়া আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দর

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হত্যা, অগ্নিসংযােগ ও নারী নির্যাতনে লিপ্ত হয়। বাঙালি জাতিকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলার। জন্য পাকিস্তানি বাহিনী সর্বাত্মক আক্রমণ করে। বাঙালিদের নেতা শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮. স্বাধীনতার ঘােষণা : শেখ মুজিবুর রহমান কারারুদ্ধ হওয়ার পূর্বক্ষণে সর্বত্র প্রতিরােধ গড়ে তােলার নির্দেশ। জারি করেন এবং বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে ঘােষণা করেন। ২৬ মার্চ বাঙালি রেজিমেন্টের পক্ষ। থেকে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম বেতার-কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘােষণা করেন। তখন থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাঙালি রেজিমেন্ট প্রতিরােধ সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়।

বহু ছাত্র-শিক্ষক-কৃষক ও আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ মুক্তির সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। ৯. মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার : ১০ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার মুজিবনগরে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার ১৭ এপ্রিল ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১০. মুক্তিযুদ্ধ ও চূড়ান্ত বিজয় : দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী যুদ্ধের পরে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় সৈন্যদের সহযােগিতায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে ১৯৭০ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করে। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সূচিত হয়, যার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, বিশ্বে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়।

এদেশের জনগণের আত্মবিশ্বাস, সততা, শান্তি ও স্বাধীনতা

এর সাফল্যের পিছনে রয়েছে এদেশের জনগণের আত্মবিশ্বাস, সততা, শান্তি ও স্বাধীনতার প্রতি অকৃত্রিম আস্থা, বিশ্ববাসীর সাহায্য ও সমর্থন এবং মুক্তিযােদ্ধাদের অপরিসীম আত্মত্যাগ ।। ৩০ প্রশ্ন : ৯.২। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলােচনা কর। অথবা, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কারণ ও গুরুত্ব আলােচনা কর। | সি. সা’দত, ক, টাঙ্গাইল, নি, প,-‘১৪) উত্তর : ভূমিকা : ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জাতীয় জীবনের সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ।। পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠীর অত্যাচার, শােষণ আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার জনসাধারণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার এক চুড়ান্ত ও দুর্বার সংগ্রামই ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও বিপুল আত্মােৎসর্গের মধ্য দিয়ে মুক্তিলাভ করে বাংলার মানুষ, মুক্ত হয় বাংলার মাটি এবং পৃথিবীর বুকে জন্মলাভ করে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। নামক রাষ্ট্রটি।

বাঙালির জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবহমান দুর্যোগের প্রেক্ষিতে এই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটে এবং বাঙালির জাতীয় জীবনে এই যুক্তিযুদ্ধের ফলাফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী।। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কারণ : বাঙালিরা দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সূর্য ছিনিয়ে আনে। এই স্বাধীনতা যুদ্ধের পশ্চাতে যেসব কারণ বিদ্যমান ছিল তা নিম্নে আলােচনা করা হলাে : (ক) অর্থনৈতিক কারণ : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পশ্চাতে পূর্ববাংলার প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনেকাংশে দায়ী। ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পূর্ব পাকিস্তানিরা শাসকগােষ্ঠীর নিকট থেকে সীমাহীন অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়।

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে ১৯৪৭ সালে করাচিতে নতুন রাজধানী স্থাপিত হলে তার উন্নয়ন ব্যয় ছিল ২০০ কোটি টাকা। পরে আইয়ুব খান যখন ইসলামাবাদে রাজধানী স্থানান্তর করেন, তখন এর উন্নয়ন খরচ হয় ২০ কোটি টাকা। অন্যদিকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাজধানী বলে খ্যাত ঢাকার উন্নয়নের জন্য খরচ হয় মাত্র ২ কোটি টাকা। রাজধানী উন্নয়নের মধ্য দিয়ে যে বৈষম্য শুরু হয়, তা পাকিস্তানের সামগ্রিক উন্নয়ন কাঠামােতে অব্যাহত থাকে।

কেন্দ্রীয় সরকারের সকল কার্যালয়, দেশ রক্ষা

কেন্দ্রীয় সরকারের সকল কার্যালয়, দেশ রক্ষা সদর দফতর ও শিক্ষায়তন, স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, পাকিস্তান শিল্পোন্নয়ন করপােরেশন, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিমান, ন্যাশনাল ব্যাংক, বীমা, করপােরেশনসমূহ, বৈদেশিক দূতাবাস, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইত্যাদির ন্যায় সকল সরকারি ও গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানাদির প্রধান কেন্দ্রগুলাে অবস্থিত ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। অথচ পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত অর্থ দিয়ে এসব উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পশ্চিম পাকিস্তানিদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *